আরও আধুনিক ও শিক্ষার্থী বান্ধব বাউবি চাই

0
275
আরও আধুনিক ও শিক্ষার্থী বান্ধব বাউবি চাই

দীর্ঘ ২৮ বছরে গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে যাওয়া আজ ২১ শে অক্টোবর ২০২০ইং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। উন্মুক্ত ভাবে শিক্ষা বিস্তারের জন্য পৃথিবীর প্রত্যেকটি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় আজ অনন্য দৃষ্টি স্থাপন করেছে। পৃথিবীর প্রত্যেকটি মানুষের পাচটি মৌলিক চাহিদা হয়েছে যা সার্বজনিন স্বীকৃত। শিক্ষা তার মধ্যে একটি । যেকোনো মানুষই শৈশব থেকে মৃত্যু পূর্ব পর্যন্ত শিক্ষাগ্রহণ করে থাকে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তার মধ্যে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ । আমাদের দেশে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা চালু হয় সেই হাজার পূর্ব থেকে। যার ধারাবাহিকতায় বর্তমানে বাংলাদেশে অনেক সরকারি – বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্টান আছে যার মধ্যে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম। শিক্ষার্থী সংখ্যার দিক দিয়ে বাংলাদেশে তৃতীয় ও পৃথিবীতে অষ্টম বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়। উন্মুক্ত ও দূরশিক্ষন শিক্ষা পদ্ধতি নিয়ে চলা বিশ্ববিদ্যালয়টি আজকে দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিশ্ববিদ্যালয়।

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় সংক্ষেপে বাউবি বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মানুষের কাছে পরিচিত বিশ্ববিদ্যালয়। খুব পরিচিতি পেলেও বাউবিকে অধিকাংশই মানুষই বুঝতে পারেন না। কেননা বাউবির মূল উদ্দেশ্য তথ্য ও প্রযুক্তি সহ সব মাধ্যমে শিক্ষা প্রদান করা। বাউবি আইন ১৯৯২ এর ৯ ধারা পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে বাংলাদেশে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার স্থাপনা বাউবিতে হয়েছে। আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা বলার কারণ আধুনিকতা বলতে আমরা বুঝি উন্নত প্রযুক্তি, ইন্টারনেট, বিভিন্ন ডিভাইস, ডিজিটাল ক্লাসরুম সহ ইত্যাদির ব্যবস্থা। উক্ত মাধ্যমে গুলো ব্যবহার করে দূরশিক্ষন পদ্ধতিতে তথা বাউবিতে শিক্ষাগ্রহন করা যায়। আমরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন গনমাধ্যমে বিভিন্ন শিক্ষামুলক অনুষ্ঠান দেখে থাকি। সব থেকে বড় উদাহরণ করোনা মহামারিতে দেশের সকল প্রতিষ্টান যে শিক্ষা পদ্ধতি চালু রেখেছে সেটাও এক ধরনের দূরশিক্ষন শিক্ষা পদ্ধতি। আবার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাউবির শিক্ষা বিস্তার করা যায়। উদাহরণস্বরূপ শায়েখ সিরাজ স্যারে বিখ্যাত অনুষ্ঠান মাটি ও মানুষ। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় হতে বাউবি আলাদা কারণ বাউবিতে যেকোনো বয়সের মানুষ অধ্যয়ন করতে পারে, নিকটস্থ স্টাডি সেন্টার রয়েছে এবং দূরশিক্ষন শিক্ষা পদ্ধতি । জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজগুলোকে বাউবি স্টাডি সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করে থাকে ।

বর্তমানে গাজীপুরে বাউবির মূল ক্যামপাস, দেশের বিভিন্ন স্থানে ১২টি আঞ্চলিক ক্যামপাস ও ৮০ টি উপ আঞ্চলিক ক্যামপাস বা কেন্দ্র রয়েছে। মূল ক্যামপাসে বর্তমানে এমবিএ, এমফিল, এ পিএইচডি চালু আছে। এছাড়া ঢাকা আঞ্চলিক ক্যামপাসে বাউবির নিজেস্ব তত্ত্বাবধানে ৮ টি অনার্স / মাষ্টার্স বিভাগ / কোর্স মোট ১০ কোর্স চালু আছে। এছাড়াও ১৫০০ এর অধিক স্টাডি সেন্টারে এসএসসি হতে এমবিএ পর্যন্ত অনেক গুলো কোর্স চালু আছে। বিভিন্ন বয়সের শিক্ষার্থীরা, চাকুরীজীবি শিক্ষার্থী, নিয়মিত শিক্ষার্থী ও অনিয়মিত অধ্যয়ন করতেছে। বাউবির শিক্ষার্থীদের পরিসংখানে দেখা যায় যে অধিকাংশ শিক্ষার্থী কর্মজীবী কিংবা চাকুরীজীবী। কিন্তু সে অনুযায়ী বাউবিতে কারিগরি শিক্ষামুলক কোর্স চালু নেই। সাধারণ ডিগ্রী নিয়ে শিক্ষার্থীদের সন্তুষ্ট থাকতে হয়। বাউবি প্রায় ৬ লক্ষ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করে। যার বিশালসংখ্যকই কর্মজীবী শিক্ষার্থী যারা বাউবিতে আছেন। আমাদের দেশের এই বিশালসংখ্যক শিক্ষার্থীদেরকে তত্ত্বীয় নয় বরং কারিগরি শিক্ষাপ্রদান করা প্রয়োজন। একজন শিক্ষার্থী সাধারণত কাজ শেষে তত্ত্বীয় শিক্ষা গ্রহনে আগ্রহী কম হয় কারণ এটি তার কর্মে প্রয়োজন নেই। কিন্তু কর্মমুখী শিক্ষা হলে সেখানে শিক্ষার্থী নিজের ইচ্ছা শিক্ষাটি গ্রহণ করবে কারণ এটি তার কর্মে দিবে অন্যথায় শুধুমাত্র সনদের জন্য আসবে এবং অসাধু উপায় অবলম্বন করার চেষ্টাও করতে পারে।

এছাড়া কাঠামোগত দিক দিয়ে বর্তমানে চাহিদা অনুযায়ী বাউবি উন্নত হয় নি। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে তারা একাডেমির বাহিরেও অন্যান্য শিক্ষাগ্রহণে যথেষ্ট সুযোগ পেয়ে থাকে। বাউবির শিক্ষার্থীদের জন্য এই সকল সুযোগ সুবিধা করা প্রয়োজন। প্রতিটি আঞ্চলিক কেন্দ্রে বাউবির নিজেস্ব অর্থায়নে কিংবা সরকারি বাজেটে উচ্চ শিক্ষার ক্যামপাস করা যেতে পারে। যেখানে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের সেমিনারে অংশগ্রহণ করবে। এছাড়াও সল্পমেয়াদি প্রফেশনাল কোর্স চালু হতে পারে। প্রয়োজন আরও লাইব্রেরির ব্যবস্থা। ই-বুক আধুনিক ও সহজ লভ্য করা প্রয়োজন। ই-বুকে শুধু বাউবি নয় দেশের অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও এর সুবিধা নিতে পারবে। প্রতিটি উপ আঞ্চলিক কেন্দ্রে লাইব্রেরি স্থাপন করা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজন। তাহলে বাউবি গরীব শিক্ষার্থীরা সেখানে গিয়ে কাজের ফাকে অধ্যয়ন করা সম্ভব হবে। উপ-আঞ্চলিক পর্যায়ে সল্প মেয়াদি কারিগরি কোর্স চালু করা যেতে পারে যা বাউবি সহ অন্যান্য শিক্ষার্থীদের লাভবান হবে। দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংগঠন যেটাকে অ্যালুমিনা এ্যাসোশিয়েশন বলে সেটা থাকে। যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যয়ন শেষে শিক্ষার্থীদের সাফল্য জানা যায়। দীর্ঘ ২৮ বছরের এটির অনুপস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের জন্য অকল্যাণকর যার ফলে বর্তমানে এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে। বাউবির কেন্দ্রীয়, আঞ্চলিক ও উপ আঞ্চলিক পর্যায়ে এটি করা যেতে পারে। পরিশেষে এটাই বলতে চাই যে দীর্ঘ ২৮ বছরের পদযাত্রায় বাউবি ও এর শিক্ষার্থীরা দেশের জন্য সম্পদ হয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতে এটি আরও সম্মানিত স্থানে যেতে পারবে।

লেখক
জিসান তাসফিক,
শিক্ষার্থী, পঞ্চম ব্যাচ, আইন বিভাগ,
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here