আলুর বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমাগারেও অভিযান জরুরি

0
44

একদিকে হিমাগার থেকে বেশি দামে আলু কিনতে হচ্ছে। অন্যদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানার শঙ্কা। এই দুই কারণে রাজধানীর পাইকারি বাজার থেকে উধাও আলু। ব্যবসায়ীরা বলছেন বেশি দামে আলু কিনে কম দামে বিক্রি সম্ভব নয়। তাই ভোক্তার জন্য ন্যায্য দামে আলু নিশ্চিত করতে পাইকারি বা খুচরা বাজারে নয়, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো উচিত হিমাগারগুলোতে। একই মত ভোক্তা অধিকার সংস্থা ক্যাবেরও।

দুই সপ্তাহ আগে সরবরাহ কম এমন অজুহাতে হঠাৎ করেই ৩০ টাকার আলু ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। সংকট সমাধানে সব পক্ষকে নিয়ে দুই দফা দাম বেঁধে দেয় কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। তবে অধিদপ্তরের নির্দেশনা মানেনি কেউই।

এমন বাস্তবতায় আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে মাঠে নামে প্রশাসন। বেশি দামে আলু বিক্রির অভিযোগে জরিমানা করা হয় অনেক খুচরা আড়ত ও পাইকারি ব্যবসায়ীকে।

ব্যবসায়ীরা বলেন, ৯০ বস্তা আলো বিক্রি করে লাভ হয় ১০ হাজার টাকা, কিন্তু এর মাঝে জরিমানা করেছে ৫০,০০০ হাজার টাকা। ম্যাজিস্ট্রেট বলে প্রতি কেজি আলু ৩০ টাকা করে বিক্রি করতে । আমাদের প্রতি কেজি আলু কিনতে খরচ হয় ৩৮ টাকা। তাহলে কিভাবে ৩০ টাকা করে বিক্রি করবো। এইভাবে তো আর ব্যবসা করা যায় না।

আরেক ব্যবসায়ী বলেন, হিমাগারে অভিযান চালানো দরকার তাহলে আমরা কম দামে আলু কিনতে পারবো। এর পর আমরা কম দামে বিক্রি করতে পারবো।

এদিকে জেল ও জরিমানার ভয়ে এবার আলু বিক্রিই বন্ধ রাখছেন ব্যবসায়ীরা। রাজধানীর কারওয়ান বাজারের পাইকারি বাজারের প্রতিটি দোকানে কয়েকশ বস্তা আলু থাকলেও এখন নেই এক বস্তাও।

ব্যবসায়ীদের দাবি আলুর দাম বেশি হিমাগারেই। তাই লোকসান দিয়ে আলু বিক্রি করবেন না তারা। ব্যবসায়ীদের এই মন্তব্যের সাথে একমত ভোক্তা অধিকার সংস্থা ক্যাবও।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসেন বলেন, যেখান থেকে পণ্যটি আসছে সেখানেও অভিযান পরিচালনা করা দরকার এবং কোনো একটি নির্দিষ্ট জায়গাই অভিযান পরিচালনা করলে রেজাল্ট পাওয়া যাবে না।

আলুর ন্যায্য দাম ফিরে না আসা পর্যন্ত সব পর্যায়েই অভিযান চালানো হবে বলে জানালেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু।

তিনি বলেন, যে সব বাজারে আলুর কৃত্রিম সংকট তৈরি করবে এবং দাম বেশি রাখার চেষ্টা করবে, তাদের কঠোরভাবে দমন করা হবে। এছাড়াও আমাদের অভিযান চলমান থাকবে।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, আলুসহ অন্যান্য নিত্য-পণ্যের দাম সারা বছর স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প বাজার ব্যবস্থাপনা জরুরি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here