কাজ করতে লজ্জা কিসের!

0
172

কাজ হলো মাবনজীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেই কাজটা হওয়া উচিত বৈধ। অবৈধ কাজ যেমন নিজের পথকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায় ঠিক তেমনি সামাজিক, ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রের জনগনের অমঙ্গল হয়। সমাজের দিকে দৃষ্টি দিলে দেখা যায় যে কেউ কৃষক, কেউ কামার, কুমার,নাপিত, মুচি, ব্যবসায়ী কেউ বা চাকুরিজীবী। দৈনন্দিন প্রয়োজনে সবাই একে অপরের সাথে সম্পৃক্ত ও নির্ভরশীল।

বর্তমান সময়ে অনেকই লোকই অক্ষর জ্ঞান জানে। কিন্তু কাজের যে কি- মর্যাদা এটা সেটা উপলব্দি করতে পারে না0। সমাজে একটা নিয়ম হয়ে গিয়েছে যে, কেউ শিক্ষিত হলে তাকে সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরি নিতে হবে। বিষয়টি তা নয়। পৃথিবীতে যারা আজ শীর্ষ পর্যায় আছেন তারা ছোট ছোট কাজ এতো গুরুত্ব দিতো যে মনে করতো সবচেয়ে মহৎ বা বড় কাজ তারা করেছেন। পরিশ্রম ছাড়া যেমন সাফল্য অর্জন করা সম্ভব নয় তেমনি যুদ্ধ ছাড়া স্বাধীনতা সম্ভব নয়। আমরা শিক্ষিত হয়ে উন্নত বিশ্বের কাছে কতো টুকুই বা শিখতে পেরেছি! আসলে বেশি কিছু নয়! কেউ মেট্রিক পাশ, ইন্টারমিডিয়েট পাশ, বা কোনো গ্রেজুয়েট শেষ করে বের হয়েছে।

তারপর চাকুরির প্রয়োজন। আজকাল মানুষের কাছে জিজ্ঞেস করলে বলে দেয় – পাশ করে বের হলেই চাকরি নিবো। অধিকাংশের মুখ থেকে শোনা যায় না সে ব্যবসা বা নিজে কিছু করবে। এভাবে যদি পরের উপর নির্ভর করে চলি তাহলে তো অসাফল্য কাম্য সবারই হবে। কেউ যদি চাকরির জন্য পড়াশোনা করে তাহলে সে মস্তবড় ভুল করছে মনে হবে। তারপরও সমাজ আমাদের কাছে যেভাবে আশা করছে তা হয়তো প্রাপ্য নয়। পরিবার বা সমাজ মনে করে ছেলে মেয়েরা পড়াশোনা করবে চাকরির আশায়।তবুও বলতে হয় আজকের সমাজ মান সম্মানের কথা বেশি ভাবে।

সভ্যতার ইতিহাসে কেউ কখনও হঠাৎ করে বড় হয় নি। এখন দেখা যায় যে, অনেকে সম্মানের কথা ভেবে ছোট ছোট কাজ করতে লজ্জাবোধ করে।কিন্তু কেন? একটু পথে -ঘাটে চোখ মিলালেই দেখা যায় মানুষ কতভাবে তার জীবনকে সুন্দর রাখার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। জীবনে সব সময় বড় কাজগুলো বাস্তবায়িত করার জন্য ছোট কাজগুলোকে অবহেলা করে থাকি। কিন্তু কেন? ছোট ছোট ইট দিয়েই বানানো হয় বিশাল রাজপ্রাসাদ, হাটি হাটি পা পা করেই পৌঁছানো যায় এভারেস্টের সর্বোচ্চ চূড়ায়। অনেক কাল্পনিক সাফল্য বাস্তব সাফল্যকে টেনে নেয়।তাই কোনো কাজকে লজ্জা না করে বরং কাজটা সম্মান দিয়ে করলে আসতে পারে মহা সাফল্য।

অবশ্যই আল্লাহ কারো ভাগ্য পরিবর্তন করে না যতক্ষণ না সে তার ভাগ্য পরিবর্তন করার চেষ্টা করে। আল্লাহর নবী হযরত দাঊদ (আঃ) নিজ হাতে উপার্জন করে খেয়েছেন( সহিহ বুখারি :২০৭২)। আর ইসলাম নিজ হাতে উপার্জন করাকে উত্তম বলেছেন।

লেখক: মনসুর হেলাল
শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ;
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here