বাণিজ্যিক অবরোধ বা পণ্য বর্জনের ফলাফল…

0
87
বাণিজ্যিক অবরোধ বা পণ্য বর্জনের ফলাফল...
বাণিজ্যিক অবরোধ বা পণ্য বর্জনের ফলাফল

বর্তমানে ও অতীতে বা কোন কালেই কোন রাষ্ট্র স্বয়ং সম্পূর্ণ নয়। সেজন্যই প্রয়োজন হয় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমেই বিশ্বের দেশগুলো তাদের অপর্যাপ্ততা দূর করে থাকে। কিন্তু যখনই এক দেশ অন্য দেশের সাথে বিরোধ শুরু হয় তখন এক দেশ অন্য দেশকে বাণিজ্যিক অবরোধ দেয়। অনেক সময় তাদের মিত্র দেশ ও এই অবরোধ যোগ দেয়।

বাণিজ্যিক অবরোধ একদেশ কর্তৃক অন্য দেশকে অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা অর্থনৈতিক দূরাবস্থা সৃষ্টির উদ্দেশ্যই দিয়ে থাকে। পণ্য বর্জন টা রাষ্ট্রীয়ভাবে হতে পারে আবার জনগণের মাধ্যমে হতে পারে। রাষ্ট্র ও জনগন সর্বাত্বকভাবে পণ্য বর্জন করলে সেটা বেশি কার্যকরী হয়। সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় সেই দেশের পণ্য গুলো আমদানি ও রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিক অবরোধ হচ্ছে মিগারিয়ান ডিক্রি যা ৪৩২ খ্রিস্টাব্দে এথেনিয়ান সাম্রাজ্যের ছোট অঞ্চল ‘মিগারা ‘কে দেওয়া হয়েছিল। ফ্যান্সের বিখ্যাত নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ও ১৮০৬ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই অবরোধ দিয়ে ছিল যা মিলান ডিক্রি বা মহাদেশীয় অবরোধ নামে পরিচিত। যেই অবরোধে ইংল্যান্ডের চেয়ে ফ্যান্সেরই ক্ষতি বেশি হয়েছিল এমনকি নেপোলিয়ন নিজেও চোরাই পথে ইংল্যান্ডে পণ্য রপ্তানি করে ছিল।

আর এই বাণিজ্যিক অবরোধ নেপোলিয়ন বোনাপার্টের পতনের পিছনেও কাজ করেছে। বর্তমান বিশ্বে কোন দেশের সাথে কোন দেশের মত পার্থক্য কিংবা সম্পর্ক নষ্ট হলেই অর্থনৈতিক অবরোধ দিয়ে থাকে যা সুদূরপ্রসারী কোন ভালো কিছু বয়ে আনে না। আমেরিকা কর্তৃক ইরানকে বাণিজ্যিক অবরোধ সেরকমই একটি অবরোধ ছিল । বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বেশি বাণিজ্যিক অবরোধ চলে আমেরিকা ও চীনের মধ্য । দেখা যায় যে আমেরিকা চীনের কিছু পণ্যের উপর অত্যাধিক হারে শুল্ক বসিয়ে দিয়ে চীনকে অর্থনৈতিক অবরোধ দেওয়ার চেষ্টা করে এবং এর পাল্টা সরূপ চীনও আমেরিকার বিভিন্ন পণ্যের উপর উচ্চ শুল্ক বসিয়ে দেয় যা দুই দেশের বাণিজ্যের জন্যই সুখকর ছিল না।

ফলে দুই দেশকেই ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। ফলে দুই দেশই এই বাণিজ্যিক অবরোধ থেকে বেরিয়ে আসে। অনেক সময় এই বাণিজ্যিক অবরোধ যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক অবস্থাকে ভেঙে দিতে পারে। কেন দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হল বৈদেশিক মূদ্রা আর বৈদেশিক আয়ের মূলমন্ত্র হচ্ছে রপ্তানি বাণিজ্য। আর সেই দেশের রপ্তানি বাণিজ্য যদি ধ্বংস হয়ে যায় তাহলে সেদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা কতটা ভেঙে পড়তে পারে তা ভাবলে বোঝা যায়। আবার অনেক সময় পণ্য বর্জনের মাধ্যমে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি ও শিল্প গড়ে উঠে। উদাহরণস্বরূপ ; ভারতবর্ষের অনেক বড় বড় শিল্প গড়ে উঠেছে স্বদেশীশ আন্দোলনের সময়। স্বদেশীয় আন্দোলনের সময় উপমহাদেশের মানুষ বিদেশি পণ্য ও প্রকাশে পুড়িয়ে ফেলে ছিল যার দরুন এ উপমহাদেশে অনেক শিল্প গড়ে উঠে।

বর্তমান সময়ে ফ্রান্সে পণ্য বর্জনের যে বিষয়টি আমরা লক্ষ্য করছি তা ফ্রান্সের জন্য বড় ভোগান্তি হয়ে দাঁড়াতে পারে এবং এটাও ধারনা করা হচ্ছে যে এই পণ্য বর্জনের ফলে ফ্রান্স যে ক্ষতির সম্মুখীন হবে যা বিগত কয়েক দশকে তাঁরা এই ক্ষতির সম্মুখীন হয় নি। তা ছাড়া ফরাসি পণ্যের সবচেয়ে বড় বাজার হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য। ইতিমধ্যে দেখা যাচ্ছে যে মধ্যপ্রাচ্য ফরাসি পণ্য বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। ইসলাম ধর্মের রাসূল এবং পৃথিবীর সবচেয়ে সম্মানিত মহামানব হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর ব্যাঙ্গচিত্র প্রকাশ করার পর পরই এই ঘোষনা দেয়। বাংলাদেশের মানুষ ও সোশাল মিডিয়া ফেসবুকের মাধ্যমে ফরাসি পণ্য বর্জনের ঘোষণা দেয়।

যার ফলাফল স্বরূপ গত কয়েক দিনের ফরাসি পণ্য বয়কটে তাঁদের ক্ষতির পরিণাম প্রায় ২০ বিলিয়ন যা আসলে কেউ কল্পনাও করতে পারি নি। এত বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া দেশটি মুসলিম বিশ্বকে পণ্য বয়কট না করার জন্য অনুরোধ জানায় । এটা থেকে উপলব্ধি করা যায় যে দেশটি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে যাচ্ছে।

লেখক: মোঃ সোহাগ উদ্দিন
শিক্ষার্থী, তৃতীয় বর্ষ,আইন বিভাগ;
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here