বুধবার, মে ১২, ২০২১
Home Blog Page 2

দেশে থেকেও টিকা নিতে পারছেন না প্রবাসীরা

0
দেশে থেকেও টিকা নিতে পারছেন না প্রবাসীরা
দেশে থেকেও টিকা নিতে পারছেন না প্রবাসীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: যেসব প্রবাসীদের জাতীয় পরিচয়পত্র নাই তাঁদের টিকা দেওয়ার বিষয়ে কোনো সমাধান দিতে পারছেন না স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন। আর জেলা নির্বাচন কার্যালয় বলছে, আগামী মাস থেকে নতুন পরিচয়পত্র করার কার্যক্রম শুরু হবে।

১৪ বছর পর ইতালি থেকে দেশে ফিরেছেন শরীয়তপুর সদর উপজেলার নরবালাখানা গ্রামের মনষা কর্মকার। আগামী এপ্রিলে তাঁর ইতালিতে ফেরার কথা। তার আগে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) টিকা নিতে চান তিনি। কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় টিকার নেওয়ার জন্য নিবন্ধন করতে পারছেন না মনষা। তাই টিকাও পাচ্ছেন না। মনষার মতো এই সমস্যায় পড়ে অনেক প্রবাসীই এই মুহূর্তে টিকা নিতে পারছেন না।

মনষা ইতালি থেকে দেশে ফেরেন ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ব্যক্তিগত কাজে ভারতে যান। করোনায় লকডাউন থাকায় সেখানে বেশ কিছুদিন আটকে থাকেন। এরপর ভারত থেকে দেশে ফিরেই জাতীয় পরিচয়পত্র করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

মনষা বলেন, ‘এরই মধ্যে টিকা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হলো। আমার পাসপোর্ট নিয়ে টিকাকেন্দ্রে ও স্বাস্থ্য বিভাগে ঘুরেছি। কিন্তু টিকার জন্য নিবন্ধন করাতে পারিনি। জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ছাড়া নিবন্ধন করা যায় না। পাসপোর্টের নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করার সুযোগ না রাখায় আমার মতো অনেকেই বিপাকে পড়েছেন।’

জানতে চাইলে শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন আবদুল্লাহ আল মুরাদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়ে টিকা নেওয়ার নিবন্ধন করতে হবে। সেখানে অন্য কোনো বিকল্প রাখা হয়নি। অনেক প্রবাসী আমাদের কাছে টিকা নিতে আসছেন, কিন্তু নিবন্ধন না হওয়ায় আমরা তাঁদের টিকা দিতে পারছি না।’

মনষার মতো বিপাকে পড়েছেন নড়িয়ার মশুরা গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর মল্লিক। তিনি সৌদি আরব থেকে ২০ বছর পর দেশে ফিরেছেন গত ১৭ জানুয়ারি। মল্লিক যখন সৌদি আরব গিয়েছিলেন, তখন দেশে জাতীয় পরিচয়পত্রের প্রচলন ছিল না। ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি টিকা নিতে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় টিকার নিবন্ধন করতে পারেননি, টিকাও নিতে পারেননি। তিনি দাবি করেন, শরীয়তপুরের দেড় লক্ষাধিক মানুষ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে থাকেন। দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকায় জাতীয় পরিচয়পত্র করাতে পারেননি। এখন দেশে ফিরেও বিভিন্ন কারণে জাতীয় পরিচয়পত্রও করাতে পারছেন না। তাঁর প্রশ্ন, কেন তাঁরা টিকা নিতে পারবেন না?

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, শরীয়তপুরে প্রথম ধাপে ৩৬ হাজার টিকা দেওয়ার কার্যক্রম চলছে। আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত ১১ হাজার ৫৭৩ ব্যক্তিকে টিকা দেওয়া হয়েছে। শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল, পাঁচটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও জেলা পুলিশ হাসপাতালে টিকা দেওয়ার কেন্দ্র চালু রাখা হয়েছে। আর সাধারণ মানুষের নিবন্ধনে সহায়তা করার জন্য প্রতিটি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে নিবন্ধন বুথ চালু করা হয়েছে।

শরীয়তপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্র করার জন্য অনেক প্রবাসী আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তবে তাঁরা সংখ্যায় কত, তার কোনো পরিসংখ্যান আমাদের কাছে নেই। আগামী মার্চ থেকে নতুন পরিচয়পত্র করার কার্যক্রম শুরু করা হবে।’

এই পরিস্থিতিতে টিকা নিতে বিপাকে থাকা প্রবাসীদের জন্য কিছুটা আশার কথা শুনিয়েছেন শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক মো. পারভেজ হাসান। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, যাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই কিন্তু পাসপোর্ট আছে, তাঁদের টিকা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে। স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে জেলা প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

এবার ’৫ দিনের আল্টিমেটাম’ দিলেন ইবি শিক্ষার্থীরা

0
এবার ’৫ দিনের আল্টিমেটাম’ দিলেন ইবি শিক্ষার্থীরা
এবার ’৫ দিনের আল্টিমেটাম’ দিলেন ইবি শিক্ষার্থীরা

ইবি প্রতিনিধি: আগামী ১ মার্চের মধ্যে আবাসিক হল খোলা না হলে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই হলে উঠার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে বলে জানিয়েছে ইসালামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়না চত্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান শিক্ষার্থীরা। পরে চলমান পরীক্ষা বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে পরীক্ষা চালুর দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন আন্দোলনকারীরক।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের এমন আচরণ শিক্ষার্থীদের হতাশ করেছে। এমন হটকারী সিদ্ধান্ত আমরা প্রত্যাখান করছি এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান রাখছি অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে হল-ক্যাম্পাস খুলে শিক্ষাকার্যক্রম স্বাভাবিক করুন। অন্যথায় শিক্ষার্থীরা এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ যে ধর্যের পরিচয় দিয়েছে সেটা আর বজায় থাকবে না। আগামী ১মার্চের মধ্যে হল ও ক্যাম্পাস খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় শিক্ষার্থীরা হলে প্রবেশের ব্যবস্থা নিজেরাই করে নিতে বাধ্য হবে।

তারা আরো বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণার পর ইতোমধ্যে ইবিতে সব ধরণের পরিক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। আমরা মনে করি এটি চরম হটকারী সিদ্ধান্ত। কারণ ইতোমধ্যে অনেক বিভাগের পরীক্ষা চলছে, কিছু বিভাগে পরিক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। যার ফলে শিক্ষার্থীরা বাড়ি থেকে এসে মেস বা বাসা ভাড়া নিয়ে ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে অবস্থান করছেন। এমন পরিস্থিতিতে পরিক্ষা বন্ধ করে দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিপাকে ফেলা হয়েছে।

পরে হল খুলে দিতে ও পরীক্ষা চালুর দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা। মিছিল নিয়ে তারা ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রশাসন ভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান কর্মসূচিতে সমবেত হয়। পরে শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে একটি প্রতিনিধি দল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. শেখ আবদুস সালামের সাথে সাক্ষাৎ করে দাবির কথা জানান।

এসময় ভিসি প্রফেসর ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, ‘আমি শিক্ষার্থীদের দাবির মঙ্গে একমত। তবে আমরা শিক্ষামন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কিছু করতে পারবো না।’ পরীক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা নিলে আমিও পরীক্ষা চালু করবো। এ মুহূর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে পারছি না।’

‘হল খোলার দাবি’তে দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন ইবিতে

0
‘হল খোলার দাবি’তে দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন ইবিতে
‘হল খোলার দাবি’তে দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন ইবিতে।

ইবি প্রতিনিধি: আবাসিক হল খোলার দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মত বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা। একইসাথে বিভিন্ন হলের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে তারা।

আজ সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়না চত্বর এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে তারা। মিছিলটি ক্যাম্পাস বিভিন্ন হল প্রদক্ষিণ করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে সমবেত হয়।

এসময় ‘প্রশাসনের প্রহসন মানিনা মানবোনা’, ‘এক দফা এক দাবি, আজকে হল খুলে দিবি’, ‘শিক্ষকরা ভিতরে, আমরা কেন বাহিরে?’ ‘লাথি মার ভাঙরে তালা, খুলে ফেল হলের তালা’, ‘ভাওতাবাজি বন্ধ কর, হলগুলো ওপেন কর’, ‘আমার হল বন্ধ কেন, জবাব চাই জবাই চাই,’ সহ নানা স্লোাগানে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা। এছাড়া বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা হলের তালা ভাঙ্গারও চেষ্টা করে।

‘হল খোলার দাবি’তে ইবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন।

এদিকে আজ দুপুরে শিক্ষামন্ত্রনালয়ের এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আগামী ১৭ মে হল ও ২৪ মে থেকে সশরীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম চালু হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি। এসময়ে কোন ধরনের একাডেমিক পরীক্ষাও নেওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

তবে মন্ত্রনালয়ের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। একইসাথে আগামীকাল সকাল ১১ টায় সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলে জানান তারা।

শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি

এর আগে গতকাল রবিবার একই দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান করে শিক্ষার্থীরা। পরে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দল ভিসির সাথে সাক্ষাৎ করে। সাক্ষাৎ শেষে ভিসির আশ্বাসে আশ্বস্ত না হওয়ায় পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করে শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, ‘আগামীকার ডিনদের নিয়ে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে পরীক্ষার বিষয়ে পরবর্তী সিন্ধান্ত নেওয়া হবে। হল খোলার ব্যপারে সরকারের সিন্ধান্তই চূড়ান্ত।’

‘নিজ দায়িত্বে’ হলে উঠবেন না ঢাবি শিক্ষার্থীরা, আশা উপাচার্যের

0
‘নিজ দায়িত্বে’ হলে উঠবেন না ঢাবি শিক্ষার্থীরা, আশা উপাচার্যের
‘নিজ দায়িত্বে’ হলে উঠবেন না ঢাবি শিক্ষার্থীরা, আশা উপাচার্যের। ছবি: সংগৃহিত।

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ‘নিজ দায়িত্বে’ হলে উঠবেন না বলে মন্তব্য করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের ওপর তাঁর আস্থা আছে।

আজ সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

আগামী ১৭ মে থেকে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আবাসিক হল খুলে দেওয়া হবে- শিক্ষামন্ত্রীর এমন ঘোষণার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে হল খুলে দেওয়ার দাবিতে আজ বিকেলে তাঁরা উপাচার্যকে স্মারকলিপি দেন। স্মারকলিপি গ্রহণের পর করা সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান এ কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীরা খুবই দায়িত্বশীল। আপনাদের কাছ থেকেও দায়িত্বশীল সহযোগিতা আশা করি। মহামারি পরিস্থিতিতে যেন আমরা আরও ধৈর্য ধরে, সহনশীল হয়ে দায়িত্বশীলভাবে এগোই। তাহলে মহামারির ঝুঁকি কমবে, জীবনের নিরাপত্তা হুমকির মুখে থাকবে না। আমাদের শিক্ষার্থীদের ওপর আস্থা আছে।’

উপাচার্য আখতারুজ্জামান আরও বলেন, ‘আমাদের একাডেমিক কাউন্সিল ১৩ মার্চ স্নাতক শেষ বর্ষ ও স্নাতকোত্তরের পরীক্ষার্থীদের জন্য হল খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এখন পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আগামীকাল সকাল সাড়ে ১০টায় একাডেমিক কাউন্সিলের সভা আহ্বান করা হয়েছে। সেখানে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জাতীয় সিদ্ধান্ত, মহামারি পরিস্থিতি, শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন দেওয়া, আমাদের পরীক্ষার তারিখ ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করতে হবে। একাডেমিক কাউন্সিলে আলোচনা করে সরকারের সিদ্ধান্তের তথ্যগুলো নেব। শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত, হলে ওঠানো, পরীক্ষা নেওয়া এসব বিষয়ে এর আগে একাডেমিক কাউন্সিলের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর আলোকে আমাদের পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলো নিতে হবে।’

এদিকে উপাচার্যের এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগে আজ দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল ও অমর একুশে হলে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ‘নিজ দায়িত্বে’ উঠে পড়েন। তবে কিছুক্ষণ হলের কক্ষে থাকার পর তাঁরা বেরিয়ে যান। এসব শিক্ষার্থী বলেন, তাঁদের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে হল খোলার বার্তা দিতে চেয়েছেন তাঁরা।

অন্য ভাষার মত মাতৃভাষাও শিখতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

0
অন্য ভাষার মত মাতৃভাষাও শিখতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
অন্য ভাষার মত মাতৃভাষাও শিখতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বের সব ধরনের ভাষা সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভাষার অধিকার রক্ষা করা, ভাষাকে সম্মান দেওয়া এবং পৃথিবীর হারিয়ে যাওয়া ভাষাগুলো সংরক্ষণের জন্যই সরকার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট গড়ে তুলেছে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এখানে ভাষা জাদুঘর করা হয়েছে। সারা বিশ্বের হারিয়ে যাওয়া ভাষা এবং চলমান ভাষার নমুনা এখানে রাখা হয়েছে।’

আজ রোববার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট আয়োজিত চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভাষা নিয়ে পড়াশোনা, ভাষার ইতিহাস সংগ্রহ করা এবং এ ব্যাপারে যাঁরা শিক্ষা ও গবেষণা করবেন, তাঁরা যেন সুযোগ পান সে ব্যবস্থা এখানে রাখা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের, আমরা রক্ত দিয়ে ভাষার কথা লিখে গিয়েছি। কাজেই অন্য ভাষাগুলো যাতে হারিয়ে না যায়, এর অস্তিত্ব যে আছে, সেটা যেন প্রকাশ পায়, সে জন্য আমরা এই ব্যবস্থা নিয়েছি। কাজেই এটা আমি মনে করি, বাংলাদেশের জন্য একটা সম্মানজনক প্রতিষ্ঠান। আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষা করে, আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে আমাদের অন্য ভাষা যেমন শিখতে হবে তেমনি মাতৃভাষাও শিখতে হবে। সেই সঙ্গে আমাদের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষাটাও সংরক্ষণ করতে হবে।’ এই প্রতিষ্ঠানকে দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে উন্নীত করায় তিনি ইউনেসকোকে ধন্যবাদও জানান।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা সংরক্ষণ করা গেলে তারা সেই ভাষায় শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে। সে জন্য আমরা আমরা তাদের বিনা মূল্যে দিচ্ছি। যাতে তারাও নিজের ভাষা শিখতে এবং কথা বলতে পারে, সেদিকে আমরা বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছি।’
ভাষা নিয়ে গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সরকার এ বছর থেকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা জাতীয় পদক-২০২১’ ও ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা আন্তর্জাতিক পদক-২০২১’ প্রবর্তন করেছে। প্রতি দুই বছর অন্তর এই সম্মাননা প্রদান করা হবে।

ভাষাশহীদদের স্মরণে সবাই দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। এরপরই একুশের গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ সমবেত কণ্ঠে পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

ইবিতে হল খোলার দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

0
ইবিতে হল খোলার দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
ইবিতে হল খোলার দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

ইবি প্রতিনিধি: আবাসিক হল খোলার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা। দাবি না মানা পর্যন্ত প্রতিদিন হলগুলোর সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন শিক্ষার্থীরা।

আজ রবিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়না চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে তারা। মিছিলটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে ভিসি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে সমবেত হয়।

এসময় ‘প্রশাসনের প্রহসন মানিনা মানবোনা’, ‘একদফা একদাবি, আজকে হল খুলে দিবি’, ‘শিক্ষকরা ভিতরে, আমরা কেন বাহিরে?’ ‘লাথি মার ভাঙরে তালা, খুলে ফেল হলের তালা, ভাওতাবাজি বন্ধ কর, হলগুলো অপেন কর, আমার হল বন্ধ কেন, জবাব চাই জবাই চাই, ’ সহ নানা স্লোাগানে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা।

বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি

এসময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘দেশের কোথাও করোনার ভয় নেই। সব স্বাভাবিক চলছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসও খোলা আছে, পরীক্ষাও হচ্ছে। বাসে ঠাসাসাসি করে এসে এক বেঞ্চে একজন করে পরীক্ষা দিচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো ছাড়া আর কি কোথাও করোনা নাই? ক্যাম্পাসের আশেপাশে বাসা মেসও পর্যাপ্ত নেই। মেসে আমরা গাদাগাদি করে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েই থাকছি।’

তারা বলেন, বাইরে থাকার কারণে ইতোমধ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হামলা হয়েছে। মেয়েরা ক্যাম্পাসের বাইরে থাকাই তাদের নিরাপত্তা নাই। অনেকেই টিউশনি হারিয়ে উচ্চ মূল্যে মেস-বাসাবাড়িতে থাকছেন। যেটা দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

পরে দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. শেখ আবদুস সালামের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এসময় বিশ্ববিদালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. শাহিনুর রহমান, প্রক্টর প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর হোসেন, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) আতাউর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এসময় শিক্ষার্থীরা তাদের যৌক্তিক দাবিসমূহ তুলে ধরেন।

বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি

ভিসি প্রফেসর ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, ‘আমি তাদের আন্দোলনের সাথে একমত। বিশ্ববিদ্যালয়ের হল, ল্যাব, শ্রেণীকক্ষগুলো যখন দেখি ফাঁকা পরে থাকে অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা যখন রাস্তায় রাস্তায় অবস্থান করে বিষয়গুলো ভীষণ পীড়া দেয়। যদি সুযোগ থাকতো তাহলে আমিও শিক্ষার্থীদের সাথে আন্দোলনে যোগ দিতাম।’ ‘আমরা চাইলেই হল খোলার ঘোষণা দিতে পারছিনা। এ সপ্তাহের শেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আমাদের মিটিং আছে। সেখানে দাবিগুলো সরকারকে জানাবো। আশা করছি অচিরেই আমরা কোনো নির্দেশনা পাবো।’

শিক্ষার্থীরা জানান, হল খোলা যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হাতে নেই। তাই সরকারী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো।

বাংলাদেশিরা বিনামূল্যে টিকা পাবে সৌদিতে

0
বাংলাদেশিরা বিনামূল্যে টিকা পাবে সৌদিতে
বাংলাদেশিরা বিনামূল্যে টিকা পাবে সৌদিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে যাওয়া কর্মীদের প্রশংসা করে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত এসসা ইউসেফ এসসা আল দুলাইহান বলেন সৌদি আরবে কর্মরত প্রত্যেক বাংলাদেশি নাগরিককে বিনামূল্যে করোনা টিকা দেবে সৌদি সরকার।

আজ বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত শেষে এসব কথা বলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত।

তিনি আরও মন্তব্য করেন, সৌদি আরবে কর্মরত প্রত্যেক বাংলাদেশি কর্মীরা দক্ষ ও কর্মনিষ্ঠ। তাদের কাজের দক্ষতায় দেশটির নিয়োগদাতারাও সন্তুষ্ট। এছাড়াও ফেরত যেতে না পারা ও নতুন ভিসা প্রাপ্তদের সৌদি আরবে নিয়ে যেতেও দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান রাষ্ট্রদূত।

এসময় তিনি বাংলাদেশের পর্যটন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করলে তার জবাবে সৌদি আরবের বিনিয়োগকারীদের স্বাগত জানানো হবে বলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি বিনিয়োগকারীদের সাথে বাংলাদেশের পর্যটন উন্নয়নে একত্রে কাজ করাটা হবে আনন্দের। একই সাথে আমরা এভিয়েশন শিল্পের উন্নয়নেও একত্রে কাজ করতে পারবো বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

এছাড়াও কোভিড-১৯ মহামারির এই সময়ে সৌদি আরবে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের দিকে খেয়াল রাখায় সৌদি কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান প্রতিমন্ত্রী। 

বর্তমানে বিশেষ ব্যবস্থায় বিমান সৌদি আরবে ফ্লাইট পরিচালনা করছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বিমানের সিডিউল ফ্লাইট পরিচালানার অনুমোদন ও কোভিড-১৯ এর কারণে সৌদি আরবে ফেরত যেতে না পারা ও নতুন ভিসাপ্রাপ্ত ৮৬ হাজার বাংলাদেশি কর্মীর দ্রুত ফেরত যাওয়ার ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সৌদি রাষ্ট্রদূতকে আহ্বান জানান।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রশংসা করে সৌদি রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের সাথে সৌদি আরবের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গভীর ও শক্তিশালী। আমরা সবসময়ই বাংলাদেশের সাথে আমাদের সম্পর্কে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করি। এজন্যই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে সৌদি আরবের বিমান যোগাযোগ বন্ধ থাকলেও বাংলাদেশের সাথে তা বন্ধ হয়নি। সিডিউল ফ্লাইট পরিচালনার অনুমোদন শুরু হলে বাংলাদেশ বিমান প্রথমেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তা পাবে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে সৌদি বিনিয়োগকারীরা প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে আগ্রহী জানিয়ে রাস্ট্রদূত বলেন, সৌদি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে বিনিয়োগ করতে খুবই আগ্রহী। এছাড়াও এভিয়েশন শিল্পের উন্নয়নে সৌদি আরব বাংলাদেশের সাথে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী।

ডাক্তার নার্সরা জীবন দিলো, কিন্তু সমালোচনা থামছে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

0
ডাক্তার নার্সরা জীবন দিলো, কিন্তু সমালোচনা থামছে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ডাক্তার নার্সরা জীবন দিলো, কিন্তু সমালোচনা থামছে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ডাক্তার-নার্সরা করোনায় জীবন দিলো, তবুও তাদের নিয়ে সমালোচনা থামছে না এমন মন্তব্য করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, আমাদের উচিৎ হবে ডাক্তার-নার্সদের প্রশংসা করা। কারণ প্রশংসা করলে ডাক্তার-নার্স ও টেকনোলজিস্টরা আরো বেশি অনুপ্রাণিত হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী গত বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা ডেন্টাল কলেজে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ও মুজিব কর্নারের উদ্বোধন এবং অডিটোরিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

জাহিদ মালেক বলেন, ‘আপনারা সবাই নিশ্চিন্তে ভ্যাকসিন নিন, দেশে ভ্যাকসিনের কোনো অভাব নেই, ভবিষ্যতেও হবে না। ভ্যাকসিন নিতে ইচ্ছুক যে কেউ সুরক্ষা অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন করলে দুদিন আগে বা পরে অবশ্যই পাবেন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি কেন্দ্রের স্থানীয় লোকের হার ও চাহিদা অনুযায়ী প্রথম ডোজের টিকা সরবরাহ করা হয়েছে। কোনো কোনো কেন্দ্রে এই চাহিদা ও রেজিস্ট্রেশনের হার তুলনামূলক অনেক বেশি হয়ে গেছে। এ কারণে কিছু কেন্দ্রে টিকা স্বল্প সময়ের জন্য কমে গেলেও সময়মতো সেখানে চাহিদা অনুযায়ী টিকা পাঠিয়ে দেয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘কোনো কেন্দ্রে রেজিস্ট্রেশন করা ব্যক্তির সংখ্যা বেশি হলে সেক্ষেত্রে টিকা গ্রহণের তারিখ কিছুটা পেছনে চলে গেলেও টিকা পেতে কোনো সমস্যা হবে না। কারণ, শুরুতেই দেশে ৭০ লাখ টিকা আনা হয়েছে। আবার ২২ ফেব্রুয়ারি আরো ২৫ লাখ আনা হচ্ছে। এভাবে প্রতি মাসেই নিয়মিতভাবে টিকা আনা হবে। ফলে টিকার অভাব কখনই হবে না এবং দেশের সকলেই টিকা পাবেন। পৃথিবীর অনেক দেশ এখন পর্যন্ত জাতীয় পর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচি শুরুই করতে পারেনি। আমরা শুরু করেছি এবং ইতোমধ্যেই ১৩ লাখ মানুষ টিকা নিয়েছেন ও প্রায় ২৫ লাখ মানুষ রেজিস্ট্রেশন করেছেন।’

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গত সাত বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গত সাত বছর ধরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রী হিসেবে কাজ করছি। দেখেছি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বাস্থ্যসেবা কোথা থেকে কোথায় এগিয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি ২০টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অনুমোদন দিয়েছেন। ৪টি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে। প্রতিটি জেলায় ১০ বেডের আইসিইউ বেড, ১০ বেডের ডায়ালাইসিস সেন্টার হচ্ছে। ৮ বিভাগে ৮টি ১৫ তলা বিশিষ্ট ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শুরু হচ্ছে আগামী মাস থেকেই। অন্যান্য আরো অনেক স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার কাজগুলো চলমান রয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে স্বাস্থ্যসেবা নিতে মানুষকে আর বিদেশে যেতে হবে না, গ্রামের মানুষকে আর কষ্ট করে ঢাকায় আসতে হবে না। নিজ এলাকাতেই চিকিৎসা সেবা নিবে মানুষ।’

করোনাকালীন সময়ে নানা সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে এসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি যখন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছি, তখন শুরু হয়েছিল ডেঙ্গু বিপর্যয়। আর এখন পেলাম করোনা মহামারি। আমরা সাফল্যের সঙ্গে করোনা মহামারি মোকাবিলা করছি। অনেকে ঘরে বসে নিরাপদে থেকে সমালোচনা করেছেন, কিন্তু অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াননি। আমরা মানুষের সেবা দিয়ে গেছি। অন্য অনেক দেশের অবস্থা খুবই নাজুক। বাংলাদেশে প্রত্যেকে চিকিৎসা পেয়েছে হাসপাতালে। শুরুতে যখন করোনাভাইরাসের ব্যবস্থাপনাই কেউ জানতো না, সেখানে অব্যবস্থাপনা কিসের। তবুও আমরা মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছি।’

এসময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ’টিকার দ্বিতীয় ডোজ চার সপ্তাহ পরে নেয়ার কথা ছিল, এখন তা আট সপ্তাহ করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুসারে এই সিদ্ধান্ত আমরা নিয়েছি। অক্সফোর্ডের এই ভ্যাকসিন প্রথম ডোজ দেয়ার পর দ্বিতীয় ডোজ নেয়ার জন্য তিন মাস সময় পাবেন। যত দেরিতে নিবেন, শরীরে তত বেশি অ্যান্টিবডি তৈরি হবে এবং ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা অনেক বেশি হবে। এজন্য আমরা দ্বিতীয় ডোজের সময় নির্ধারণ চার সপ্তাহের বদলে আট সপ্তাহ করেছি।’

অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন আগে পাবে বাংলাদেশ: ভারতের পররাষ্ট্র সচিব

0
অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন আগে পাবে বাংলাদেশ: ভারতের পররাষ্ট্র সচিব
অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন আগে পাবে বাংলাদেশ: ভারতের পররাষ্ট্র সচিব

কোভিড ডেস্ক: ভারতে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনার ভ্যাকসিন কোভিশিল্ড নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগের কোনো কারণ নেই মন্তব্য করেছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউশনে তৈরি টিকা বাংলাদেশ পাওয়া না পাওয়ার খবর ছড়ানোর পরই তিনি আশ্বস্ত করলেন বাংলাদেশকে।

ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, ‘প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশের টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই। ভারতে উৎপাদিত টিকা বাংলাদেশ প্রথমেই পাচ্ছে।’ ঢাকায় ভারতের সাবেক হাইকমিশনার হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। বর্তমানে তিনি ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে দায়িত্বরত।

ভ্যাকসিন নিয়ে আরো বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জি টু জি ভিত্তিতে বাংলাদেশের জনগণকে ভ্যাকসিন দেবে ভারত। প্রাথমিক অবস্থায় এই টিকা বাণিজ্যিকভাবে সরবরাহ করা হবে না। তবে বৃহৎ পরিসরে যখন উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব হবে, তখনই বাণিজ্যিক চুক্তির আওতায় ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হবে।’

সম্প্রতি ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউশন থেকে উৎপাদিত কোভিড-১৯ টিকা রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় দেশটির সরকার। এমন গুঞ্জনে জল ঢেলে দিলেন শ্রিংলা।

কোভিশিল্ড নামের ওই টিকার তিন কোটি ডোজ কিনতে গত ৫ নভেম্বর সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশের ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর সোমবার (৪ জানুয়ারি) এ টিকা আমদানি ও জরুরি ব্যবহারের অনুমোদনও দিয়েছে।

প্রতি ডোজ দুই ডলার দরে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে তিন কোটি ডোজ করোনা ভ্যাকসিন কিনছে বাংলাদেশ সরকার। এতে ব্যয় হবে ৪ হাজার ২৪২ কোটি টাকা। তবে করোনা ভ্যাকসিন দেশে আসার পরও প্রয়োগের সার্বিক প্রস্তুতি নিতে সময় লাগবে অতিরিক্ত আরও ২ মাস।

মোবারকগঞ্জ চিনিকলে ২০২০-২১ মৌসুমের আখ মাড়াই উদ্বোধন

0

উত্তম,ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের মোবারকগঞ্জ চিনিকলে ২০২০-২১ মৌসুমের আখ মাড়াই উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার বিকাল ৫ টায় আখ মাড়াই এর উদ্বোধন করেন কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার। প্রধান অতিথি ঠোঙ্গায় আখ ফেলে আখ মাড়াই উদ্বোধন করেন। এর আগে বিকাল ৪ টায় দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মিলের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি গোলাম রসুল, আখচাষী সমিতির সভাপতি জহুরুল ইসলাম, পৌরসভার প্যানেল মেয়র মনিররুজ্জামান রিংকু, মিলের জিএম (কৃষি) আহসান হাবিব প্রমুখ। চলতি ২০২০-২১ মাড়াই মৌসুমে এক লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ১০ হাজার ৪’শত মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।