রবিবার, জুলাই ২৫, ২০২১
Home Blog Page 3

মোবারকগঞ্জ চিনিকলে ২০২০-২১ মৌসুমের আখ মাড়াই উদ্বোধন

0

উত্তম,ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের মোবারকগঞ্জ চিনিকলে ২০২০-২১ মৌসুমের আখ মাড়াই উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার বিকাল ৫ টায় আখ মাড়াই এর উদ্বোধন করেন কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার। প্রধান অতিথি ঠোঙ্গায় আখ ফেলে আখ মাড়াই উদ্বোধন করেন। এর আগে বিকাল ৪ টায় দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মিলের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি গোলাম রসুল, আখচাষী সমিতির সভাপতি জহুরুল ইসলাম, পৌরসভার প্যানেল মেয়র মনিররুজ্জামান রিংকু, মিলের জিএম (কৃষি) আহসান হাবিব প্রমুখ। চলতি ২০২০-২১ মাড়াই মৌসুমে এক লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ১০ হাজার ৪’শত মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জে হেল্প ফর ডিপ্রাইভড ফাউন্ডেশন শীতবস্ত্র বিতরণ

0

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানায় হেল্প ফর ডিপ্রাইভড ফাউন্ডেশন এর সহায়তায় কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৮ ডিসেম্বর) সকালে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন এতিমখানায় হেল্প ফর ডিপ্রাইভড ফাউন্ডেশন এর চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান ছোটন সভাপতিত্বে এ কম্বল বিতরণ করা হয়।

মাহমুদুল হাসান ছোটন বলেন, হেল্প ফর ডিপ্রাইভড ফাউন্ডেশন সারাদেশে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামজিক উন্নয়ন মূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এবারের শীতের সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের শীতের কষ্ট থেকে বাঁচাতে দুই হাজার কম্বল বিতরণ করা হবে, তারই ধারাবাহিকতায় সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার এতিমখানা ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাঝে উপহার হিসেবে এই কম্বল তুলে দেয়া হলো।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি সমাজ ও মানবাধিকার কর্মী যুব সংগঠক তানভীর আনজুম তুষার বলেন, ‘শীতে যাতে সাধারণ মানুষ কষ্ট না পায় সে জন্য কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। তবে কেউ না পেয়ে থাকলে তাদের জন্যও কম্বলের ব্যবস্থা করা হবে। আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।’ সিরাজগঞ্জের শীতার্ত মানুষদের পাশে দাড়ানোর জন্য সামাজিক সংগঠন হেল্প ফর ডিপ্রাইভড ফাউন্ডেশন ও এর চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান ছোটন এর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন ও করেন তিনি।

এই সময় আরো উপস্থিত ছিলেনঃ হেল্প ফর ডিপ্রাইভড ফাউন্ডেশন এর প্রযেক্ট অফিসার মোঃ রাসেল, বিশিষ্ট সমাজসেবক মোঃ সাখাওয়াত হোসেন মুকুল ও আবু সুফিয়ান প্রমুখ।

শহীদ মিনার হবে বিজয়ী দাবী আদায় কেন্দ্র… রাজশাহীতে মেয়র লিটন

0

জিয়াউল কবীর (রাজশাহী ব্যুরো):জেলায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। আজ বুধবার বিজয় দিবসের সকাল ১১টায় রাজশাহী মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র সোনাদিঘি এলাকায় ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সার্ভে ইনস্টিটিউটের পরিত্যক্ত জায়গায় এই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৈসুলি ও ভাষাসৈনিক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট গোলাম আরিফ টিপু।


এরপর তিনি সেখানে একটি প্রতীকি শহীদ মিনারে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে সেখানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, রাজশাহী মহানগর উদ্যোগে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার অসংখ্য মানুষ শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ১৪ দল, রাজশাহীর উদ্যোগে সেখানে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ১৪ দল, রাজশাহীর সমন্বয়ক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, রাজশাহী মহানগরের সভাপতি ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন, রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা, ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন, ভাষাসৈনিক মোশাররফ হোসেন আখুঞ্জি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. শামসুল আলম বীর প্রতীক, নগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলির সদস্য ও কবিকুঞ্জের সভাপতি প্রফেসর রুহুল আমিন প্রামানিক, প্রবীণ সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান খান আলম, নগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মোঃ ডাবলু সরকার, চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মনিরুজ্জামান মনি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের মহানগরের সাধারণ সম্পাদক দীলিপ কুমার ঘোষ।

সমাবেশে মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, রাজশাহীতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার আরও অনেক স্থাপিত হওয়া উচিত ছিলো। দেরীতে হলেও আজকে এই শহীদ মিনার উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে রাজশাহী আপামর জনতা তাদের দাবী দাওয়া আদায়ের লক্ষ্যে এই জায়গাকে সবসময় ব্যবহার করতে পারবে। এটা রাজশাহীবাসীর প্রাণের দাবী ছিলো। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার স্থাপিত হওয়ার মধ্যে দিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন হলো।

মেয়র আরো বলেন, শহীদ মিনার একটা আবেগের জায়গা। এখানে সভা-সমাবেশ হবে। মানুষ এসে তার মনের কথা বলবে। ঢাকায় যেমন বিশিষ্ট কোন ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে তার মরদেহ শহীদ মিনারে রেখে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়, তাকে শেষ বিদায় জানানো হয়, এখানেও তেমন হবে। দ্রুতই সবাইকে নিয়ে সভা করে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় হাত দেব।
মেয়র আরো বলেন, রাজশাহীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি দৃষ্টিনন্দন ও উন্মুক্ত পরিবেশ। সারাবছর এটি খোলা থাকবে। জনগণের দাবি আদায়ের কেন্দ্রবিন্দু হবে। আসুন এখনো যদি শহীদ মিনারের ব্যাপারে দ্বিমত থাকেন, আমাদের সাথে বসতে পারেন। তবে রাজশাহীর মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সকল মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, আমরা একজোট হয়েছি। আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের স্মরণ করা হবে।

ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, জেলা পরিষদ এখন নিজেদের টাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণের কথা বলছে। কিন্তু টাকা তো চাইতে হবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে। সে টাকা আগেই প্রধানমন্ত্রী আমাদের কাছে পেঁৗছে দিয়েছেন। একবার ট্রেন প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে এলে সেই ট্রেন ঘুরে এসে আবার নতুন করে ছাড়ে না। অতএব, সেইসমস্ত বক্তব্য অবান্তর, অবাস্তব, অরাজনৈতিক, মুক্তিযুদ্ধ এবং ভাষা আন্দোলনকে অবমাননাকর এমনকি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অবমাননাকর।


তিনি আরো বলেন, রাজশাহীতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে আমরা দেব না। এটা আমাদের দৃঢ় প্রতিজ্ঞা। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার বাস্তবায়নের জন্য মাননীয় সিটি মেয়র মিটিং ডাকবেন। সংসদ সদস্য হিসেবে আমি এই মিটিংয়ে যাব। মাননীয় মেয়রের এই উদ্যোগকে আমি পূর্ণাঙ্গভাবে সমর্থন করি। ভাষা আন্দোলনের সময় যারা রাজশাহী কলেজে প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ করেছিলেন, তারা আজ ২০২০ সালে এসেও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য এখানে এসেছেন। তাই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এখানে হবে, কেউ বাধা দিতে পারবেন না।
মোঃ ডাবলু সরকার বলেন, রাজশাহীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার আমাদের অহংকার। আজকের এই দিনে শহীদ মিনার স্থাপনের যাত্রায় সামিল হতে পেরে আনন্দ বোধ করছি। আশা করি, রাজশাহীবাসীর প্রাণের এই দাবী খুব দ্রুত বাস্তবায়ন হতে চলেছে। এই শহীদ মিনারের চত্বরে দাঁড়িয়ে রাজশাহীর রাজনৈতিক
,সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের মনের ভাব প্রকাশের স্থান হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে।


এ সময় উপস্থিত ছিলেন নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহীন আকতার রেনী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা নওশের আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল, অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা, রেজাউল ইসলাম বাবুল, ডাঃ তবিবুর রহমান শেখ, নাঈমুল হুদা রানা, যুগ্ম সম্পাদক মোস্তাক হোসেন, আলহাজ্ব আসাদুজ্জামান আজাদ, আহ্সানুল হক পিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. আসলাম সরকার, আজিজুল আলম বেন্টু, মীর ইসতিয়াক আহম্মেদ লিমন, কৃষি সম্পাদক মীর তৌফিক আলী ভাদু, দপ্তর সম্পাদক মাহাবুব উল আলম বুলবুল, প্রচার সম্পাদক দিলীপ কুমার ঘোষ, আইন সম্পাদক অ্যাড. মুসাব্বিরুল ইসলাম, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক জিয়া হাসান আজাদ হিমেল, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ফিরোজ কবির সেন্টু, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক শ্যাম দত্ত, মহিলা সম্পাদিকা ইয়াসমিন রেজা ফেন্সি, বন ও পরিবেশ সম্পাদক রবিউল আলম রবি, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক মকিদুজ্জামান জুরাত, শিল্প ও বানিজ্য সম্পাদক ওমর শরীফ রাজিব, শ্রম সম্পাদক আব্দুস সোহেল, সাস্কৃতিক সম্পাদক কামারউল্লাহ সরকার কামাল, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা সম্পাদক ডাঃ ফ ম আ জাহিদ, উপ-দপ্তর সম্পাদক পংকজ দে, উপ-প্রচার সম্পাদক সিদ্দিক আলম, কোষাধ্যক্ষ এ.বি.এম হাবিবুল্লাহ ডলার, জাতীয় পার্টির, কেন্দ্রীয় নেতা সাইদুল ইসলাম স্বপন, নগর ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ প্রামানিক দেবু, বাংলাদেশ জাসদ, রাজশাহী মহানগরের সভাপতি নুরুল ইসলাম হিটলার, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক
প্রমুখ।

রুদ্র অয়ন এর ছোটগল্প ঘুষ

0
রুদ্র অয়ন এর ছোটগল্প ঘুষ
ঘুষ | রুদ্র অয়ন

ইজি চেয়ারে বসে সারাদিনের ঘুষের উপার্জন গুনছেন নাদের বাবু। কেউ দিয়ে গেছে পাঁচশো টাকার বান্ডিল, কেউ দিয়ে গেছে এক হাজার টাকার বান্ডিল। উল্টো পাল্টা নোট গুলো গুছাতে গুছাতে মনে মনে গালি দিচ্ছিলেন সেই টাকা যারা দিয়েছে তাদের।

মনে মনে নাদের বাবু বলছেন -শালা মানুষ গুলো ভালো মতো টাকা গুলো গুছিয়েও দিতে পারেনা। ওরা জানেনা যে এখন ব্যাংকে উল্টা পাল্টা টাকা নেয় না! কাউন্টারে ভেটকি মেয়েটা প্রতিদিন ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ করে উল্টা পাল্টা টাকা দেখলে!

নিজের মনে মনে টাকা গুলো আবার গুনতে শুরু করবেন এমন সময় ঘড়িতে ঢং ঢং করে পাঁচটা বাজার সংকেত দিলো। দেয়ালে একটা পুরানো আমলের ঘড়ি লাগানো নাদের বাবুর অফিসে। শিক্ষা অফিসে আজ প্রায় ৭ বছর হতে চললো নাদের বাবুর। এখানে ঢোকার সময় পুরো দশ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে নেতা কে খুশি করে তারপর নেতার সেক্রেটারিকে দুই মাসের বেতনের সমান টাকা দিয়ে তারপর চাকরিটা পেয়েছেন তিনি। এজন্য নাদের বাবুর সকল জমিজমা বন্ধক দিতে হয়েছিলো। আর এখানে চাকরি পেয়েই প্রথম মাস থেকে শুরু করেছেন পুরো দমে ঘুষ খাওয়া। পুরো বারো লাখ টাকা দিয়ে নাদের বাবুর বাপের আমলের জমি ছাড়াতে পাঁচ বছর লেগে গেছে। বাবা মারা গেছেন আগেই, ইতোমধ্যে তার মাও মারা গেছেন। নাদের বাবু বিয়ে করেছেন । মেয়েও আছে একটা। ক্লাশ টু তে পড়ে।

আজ নাদের বাবুর মন খুব ভাল। কারণ আজ প্রথম বার নিজের জন্য ঘুষ খেয়েছেন তিনি। এর আগে জমি ফেরত পেতে আর নতুন ফ্লাট কেনার জন্য খেয়েছেন। চিন্তা করেছিলেন ছেড়ে দেবেন ঘুষ খাওয়া। কিন্তু কিছুই করার নেই। অভ্যাস হয়ে গেছে। ঘুষ ছাড়া একটা ফাইল ও ছাড়েন না তিনি। পাঁচশো টাকার বান্ডিল টা গোনা প্রায় শেষ এমন সময় পিওন এসে বললো- ‘স্যার একজন বুড়া লোক একটা ফাইল নিয়ে এসেছে। অনেক বার বলেছি আজ অফিস শেষ কিন্তু ব্যাটা কিছুতেই শুনছেনা! স্যার, তাকে কি আসতে বলবো?’
ফাইলের কথা শুনে নাদের বাবুর চোখ দুটো চকচক করে ওঠলো !
বললেন- ভেতরে পাঠিয়ে দে। হাতের লক্ষ্মী পায়ে ঠেলতে নেই রে।’
নাদের বাবুর কথা শুনেই পিওন দৌড় দিলো বুড়োকে ডেকে আনতে। নাদের বাবু তাড়াতাড়ি সামনে পড়ে থাকা নোট গুলো পাশে পড়ে থাকা কালো ব্যাগে ভরে একটা ভারিক্কি চাল নিয়ে বসে থাকলেন।
খদ্দেরের সামনে হাসি মুখ নিয়ে থাকলে আবার কেউ টাকা দিতে চায়না। টাকা দিতে গড়িমসি করে। টাকা নিয়ে কি কি করবেন কি কি কিনবেন এটা চিন্তা করতে করতে সুখে প্রায় চোখ বুজে ফেলেছিলেন নাদের বাবু।
এমন সময় খুঁক করে কাশি শুনে সামনে তাকালেন তিনি- তাকিয়ে পুরো থ’ মেরে গেলেন। দেখেই মেজাজটা খারাপ হয়ে গেলো!

কারণ সামনে দাঁড়িয়ে আছেন তার স্কুলের ইদু স্যারের । স্যারের সাহায্য ছাড়া কোন ভাবেই সরকারী স্কুলে চান্স পেতেন না নাদের বাবু। স্যারকে দেখেই মেজাজ খারাপ হয়ে গেল তার! অবশ্য মনে মনে ভাবছেন এতদিন পর স্যার হয়তো চিনবেন না। চেহারা ও শারিরিক গঠণেতো অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এর মাঝে নাদের বাবুর বিশাল এক ভূড়ি হয়ে বসেছে । চেহারাও গোলগাল, গোপাল গোপাল টাইপের হয়েছে।

কিন্তু নাদের বাবুকে পুরো অবাক করে দিয়ে স্যার বলে ওঠলেন-
‘আরে নাদের তুই ? কেমন আছিস? আমাকে চিনেছিস? আমি তোর সেই স্কুলের ইদু স্যার! আমাকে অনেক গুলো অফিসে ঘুরিয়ে তোদের সেকেন্ড অফিসার আমাকে বলেছে তোর কাছে আসতে। আমাকে আরও বললো তুই নাকি ঘুষ খাস! যেন বেশ কিছু টাকা নিয়ে দেখা করি। আমি ভাবলাম আগে দেখা করি। তারপর যা হয় দেখা যাবে।’
নাদের বাবু মনে মনে গালি দিতে দিতে মুখে বললেন – ‘হ্যাঁ স্যার, কেমন আছেন? বসুন, বসুন। বলুন কি করতে পারি?’
এবার ইদু স্যার খুব কষ্ট পেলেন। নাদের তার প্রিয় ছাত্রদের মাঝে অন্যতম ছিলো। আর আজ কিনা ওঠে দাঁড়িয়ে সম্মান পর্যন্ত দেখাল না!
আস্তে আস্তে ফাইলটা সামনে রেখে বসলেন ইদু স্যার । কষ্ট পেলেও মুখের ভাব ঠিক রেখে বললেন- ‘বাবা, দেখো না এই ফাইলটা আমার পেনশনের ইনক্রিমেন্ট বাড়ানোর ব্যাপারে একটা সাইন লাগবে। সামনের মাসে আমার মেয়ের বিয়ে। খুব সংকটের মধ্যে আছি। ‘
চোখ মুখ শক্ত করে বসে ছিলেন নাদের বাবু। সামনে ফাইলটা নিয়ে নেড়ে চেড়ে দেখলেন। একটু মনে মনে গুনে নিলেন কত টাকা খেতে পারবেন। ভেবেই ফাইলটা বন্ধ করে ডানে পাশে রেখে বললেন -‘হুম বুঝেছি- এটার জন্য আপনাকে দুই মাস পড়ে আসতে হবে।’
কখা শুনে অবাক হয়ে গেলেন ইদু স্যার! ভ্রু বাকিয়ে বললেন- ‘মাত্র একটা সই বাকি আছে রে! এটা করতেই দুইমাস?’
‘আহা বুঝছেন না কেন? দেখছেন না চারদিকে কত ফাইল! এখানে সিরিয়াল বলে একটা ব্যাপার আছে। আর আমার তো কাজের অভাব নেই। এত কাজের মাঝে কত ফাইল আসবে। তাই কমসে কম দুইমাস লাগবে।’ বলেই ব্যাগ গুছাতে শুরু করে দিলেন নাদের বাবু। অবাক হয়ে তাকিয়ে আছেন ইদু স্যার! নাদের কি থেকে কি হয়ে গেলো! কোন ভাবেই নিজের চোখ কে বিশ্বাস করতে পারছেন না! তিনি অনেক কষ্টে বললেন- ‘বাবা নাদের তোমাকে কি ঘুষ দিতে হবে?’
উত্তরে নাদের বাবু যা বললেন তাতে মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো ইদু স্যারের!
নাদের বাবু বললেন- ‘দেখুন, এখান থেকে ফাইল সাইন করিয়ে নিয়ে যেতে দুটো বান্ডিলে ৫০০ টাকার ১০০ টা নোট লাগে। আসলে এটা হলো উপহার। এটাকে ঘুষ বলবেন না আবার । আমাকে আপনি কিছু দেবেন, আমিও আপনাকে কিছু দেবো।’
একটুক্ষণ নিরব থেকে পরক্ষণে আবার নাদের বাবু বললেন – ‘আপনি আমার পরিচিত। তাই আপনার জন্য কনসেশন আছে। আপনি ৫০০ টাকার ৫০ টা নোট দিলেই হবে। আপনার ফাইলে সাইন হয়ে যাবে।’ বলেই খট খট করে হেসে উঠলেন নাদের বাবু।
ইদু স্যারের বুকের ভেতর কেমন যেন ব্যথা করে ওঠলো। নিজেকে সামলে নিয়ে পলিথিনের ব্যাগ থেকে টাকা বের করলেন তিনি। টাকা দিতে হবে ভেবেই সাথে এনেছিলেন। কিন্তু তাঁর আদর্শ এভাবে বলিদান হবে তিনি কল্পনাও করতে পারেননি। ফাইলে সই করিয়ে ইদু স্যার চলে গেলেন। যাবার সময় কাঁদো কাঁদো চোখে তাকিয়ে ছিলেন নাদের বাবুর দিকে। নাদের বাবু তখন টাকা গণনায় ব্যস্ত ।

খোশালপুরকে কুপোকাত করলো সুগার মিল স্পোটিং ক্লাব

0

উত্তম, ঝিনাইদহ: স্বপ্নচূড়া কুল্যাপাড়া সামাজিক সংগঠনের আয়োজনে “রাখালগাছি প্রিমিয়ার লীগ-২০২০” এর ২য় রাউন্ডের ১ম ম্যাচ অনুষ্ঠিত। কুল্যাপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গনে সোমবার বিকাল ৩ ঘটিকার সময় খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়।

২য় রাউন্ডের ১ম ম্যাচে অংশগ্রহণ করে খোশালপুর ক্রিকেট একাদশ বনাম সুগার মিল স্পোটিং ক্লাব (কালীগঞ্জ)।টসে জিতে খোশালপুর ক্রিকেট একাদশ ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রথমে ব্যাট করে খোশালপুর ক্রিকেট একাদশ নির্দিষ্ট ১২ অভারে ৬ উইকেটের পতন ঘটিয়ে ৮৮ রানের টার্গেট গড়ে তোলে।এরপর সুগার মিল স্পোটিং ক্লাব ৪ উইকেট হারিয়ে ৯ অভার ৪ বল খেলে ৯১ রান করে জয়কে ছিনিয়ে নেয় ।

আজকের খেলায় ২৭ বলে ৩৯ রান ও ১ উইকেট অর্জনের মাধ্যমে ম্যান অফ দা ম্যাচ নির্বাচিত হন সুগার মিল স্পোটিং ক্লাবের খেলোয়াড় রাজু।আজ তিনি দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৯ রান করেন।এ নিয়ে তিনি টানা দুই ম্যাচে ম্যান অফ দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হলেন।

খেলাটির আয়োজকরা জানান, গতকাল মোবারকগঞ্জ সুগার মিল স্পোটিং ক্লাব(মোচিক) এর প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ আহমেদ কুটির এর আকস্মিক মৃত্যুর কারণে আমরা স্বপ্নচূড়ার পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে শোকাহত।সবাই তার আত্মার শান্তি মাগফেরাত কামনা করছি।

আয়োজকরা আরো জানান, আগামীকাল টুর্ণামেন্টের ২য় রাউন্ডের ২য় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। খেলাটিতে অংশগ্রহণ করবে বড় ধোপাদি ক্রিকেট একাদশ এবং কাঁঠাল বাগান ক্রিকেট একাদশ (কালীগঞ্জ)।

উক্ত খেলাটির স্পোন্সার হিসেবে রয়েছে- জেবান ইলেকট্রনিক্স এবং ইয়াসিন ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপ (কুল্যাপাড়া, কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ)। আরো রয়েছে মনির গার্মেন্টস এন্ড বস্ত্রালয় (কালীগঞ্জ ঝিনাইদহ)।

বেলকুচিতে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ

0

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার চর সোহাগপুর গ্রামে ইয়ুথ এগেইনস্ট হাঙ্গার এর উদ্যোগে নারী ও পুরুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

রোববার (১৩ ডিসেম্বর) সকালে চর সোহাগপুর গ্রামে সমাজ ও মানবাধিকার কর্মী তানভীর আনজুম এর সভাপতিত্বে এ কম্বল বিতরণ করা হয়।

তানভীর আনজুম তুষার বলেন, ‘শীতে যাতে সাধারণ মানুষ কষ্ট না পায় সে জন্য কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। তবে কেউ না পেয়ে থাকলে তাদের জন্যও কম্বলের ব্যবস্থা করা হবে। আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।’ সিরাজগঞ্জের শীতার্ত মানুষদের পাশে দাড়ানোর জন্য যুব সংগঠন ইয়ুথ এগেইনস্ট হাঙ্গার ও এর সভাপতি রাইসুল মিল্লাত এর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন ও করেন তিনি।

এই সময় আরো উপস্থিত ছিলেনঃ মোঃ আব্দুস সালাম, ওমর ফারুক, আবু সুফিয়ান প্রমুখ।

মানবতার কল্যাণে বিজয়ের ইতিহাস স্মরণীয় হোক

0
মানবতার কল্যাণে বিজয়ের ইতিহাস স্মরণীয় হোক
মানবতার কল্যাণে বিজয়ের ইতিহাস স্মরণীয় হোক


নজরুল ইসলাম তোফা: আজকের এ বাংলাদেশটিকে স্বাধীনের পিছনে প্রতীকিভাবেই চলে আসে মুক্তিযোদ্ধা, শহীদের রক্তে রাঙানো শহীদ মিনার, অসাম্প্রদায়িকতা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইত্যাদি। এমন বিষয়গুলো আজকে প্রতীকিভাবেই প্রকাশ করানোর মাঝে বেঁধেছে সংঘাত। এই দেশের স্বাধীনতার পিছনে এমন কিছু বৃহৎ শক্তিগুলোর অবদানকে কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। আজ এইদেশের মানুষ স্বাধীনতা অর্জন বা বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই যেন তারা সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচল। সেখানে তাদের প্রতিবাদটাও ‘ভঙ্গুর’।

আর যথার্থ প্রতিবাদের ভাষায় উঠে আসে নিম্ন চেতনার কিছু ‘পোড়া টায়ারের গন্ধ’। তাদের আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝে জন্মদাগও মুছে যায়। অবাক হতে হয়, স্বাধীনতার ডাক দিয়ে যে পুরুষ বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিল, তাকে নিয়ে নেতিবাচক দৃষ্টিতে কথা বলায় বুক কাঁপেনা। তারা সংশোধনাগার থেকে আজও সঠিক ঠিকানায় পৌঁছাতে পারলোনা। এই দেশে কিছু কুচক্রী মহলের নিকট থেকে নিরুপায় হয়ে অনেক দূরত্বে যেন ‘সুশীল সমাজ’। কঠিন থেকে কঠিনতর এক বাস্তবতাকে পর্যায় ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত অসাধু মানুষ। যেকোনো ধর্মের দোহাই দিয়ে শুধুমাত্র চায়- ”ক্ষমতা”। এ লোভ যেন ইতিহাস বিকৃতির এক ভয়ানক লোভ। “কলমে বঙ্গবন্ধু, ভাস্কর্যে বঙ্গবন্ধু বা চেতনার বঙ্গবন্ধু’কে তারা নিশ্চিহ্ন করতে চায়। ভাববার সময় এসেছে। নতুন প্রজন্মের কাছে এদেশের বিজয়ের ইতিহাস এবং ঐতিহ্য কতোটুকু সত্য থাকবে সন্দেহ হয়। তাদের এই ”সাম্প্রদায়িকতার বিষাক্ত প্রতিবাদের সুরটা” হরহামেশায় কোথা থেকেই মস্তিষ্কে ভর করে।

অসাম্প্রদায়িকতার বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িকতার এক তান্ডব যেন অনেকাংশেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিছুসংখ্যক ভিন্ন মনোভাব পোষণকারী এবং মতাবলম্বী মানুষদের গুরুত্ব দিয়েই যেন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঐতিহ্য বা সংস্কৃতির আজ বিলুপ্তির পথে। মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তিযোদ্ধা ও জাতির পিতা “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের গর্ব এবং অহংকার”। মুুুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই তো আমরা আজকে পেয়েছি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। বলতেও পারি যে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ, আর তা দিনে দিনেই এসে দাঁড়িয়েছে প্রযুক্তি নির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশ। তরুণরা  এদেশের খুব সত্য ইতিহাস খোঁজে পায়না বললেই চলে,  আর অসত্য ইতিহাস জানলেও তাদেরমধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্বের রোগে ভুগবে। একটু বলতে চাই ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার যুদ্ধে পরাজিত গোষ্ঠী- ‘জামায়াত, আলবদর, রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধীরা’ ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে খুন করেছিল, আর তাদের নেতৃত্বদানকারী আরো কিছু চিহ্নিত দল ঐক্যবদ্ধ হয়েই বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং বিজয়কে নস্যাৎ করার জন্যে চেষ্টা চালিয়েছিল। বিভিন্ন তথ্য মতে ইসলামিক সংগঠনগুলো জামায়াত-শিবিরসহ উগ্রপন্থী ইসলামিক দলই- স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব নস্যাৎ করার জন্য বিভিন্ন প্রকারের অপকর্ম, বিশৃঙ্খলতা এবং স্বাধীনতার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি বা জাতির পিতার স্মৃতি মুছে ফেলার জন্যে অপপ্রচার চালিয়ে এই দেশের জনগণের মধ্যে আজও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেই আসছে। যা দেশের জনগণের ভিতরে একটি স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়েও ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হচ্ছে।

এই দেশে স্বাধীনতা বিরোধী পাকিস্তানি দালাল’রা একের পর এক কৌশলে দেশবিরোধী নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে তিলকে তাল বানিয়ে অন্যান্য যে গুলো ধর্মালম্বী মানুষদেরকে কোন ঠাসা করছে। বাংলাদেশের জনসাধারণ আজ ধর্মীয় জাঁতা কলেই নিরুপায়। তবুও আজ এই দেশের সত্য ইতিহাসকে তরুণপ্রজন্মের কাছে সঠিক চিন্তা ভাবনার জায়গা সৃষ্টি করে দিতে হবে। তাই, এই দেশের স্বাধীনতার বিজয়ের খুব সত্য কিছু ইতিহাস ধারাবাহিক ভাবে আলোচনা না করলেও একটু সংক্ষিপ্ত ভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশের নিকট থেকে এই দেশের জনগণ স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই পাকিস্তানের দুই প্রদেশের মধ্যে বিভিন্ন প্রকার ইস্যু নিয়েই সম্পর্কের অবনতি ঘটে, সেগুলোর মধ্যে কিছু তুলে ধরা যেতে পারে যেমন ধরুন ভূূমি সংস্কার, রাষ্ট্র ভাষা, অর্থনীতি এবং প্রশাসনের কার্য ক্রমের মধ্যে যেন দু’প্রদেশের অনেক বৈষম্য, প্রাদেশিক স্বায়ত্ত শাসন, পূর্বপাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ও নানাধরনের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংঘাত সৃষ্টি হয়। মূলত ‘ভাষা আন্দোলন’ থেকে বাংলাদেশের মুুুক্তিযুদ্ধের নানা পটভূমি তৈরি হতে থাকে। একটু জানার চেষ্টা করি যে, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকেই ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা’ বলা যায়। এ বাঙালিরা ১৯৫৪ সালের ”নির্বাচনে জয়ী” হওয়ার পরেও তারা ক্ষমতা পেয়ে পূর্বপাকিস্তান বা পূর্ববাংলাকে শাসন করার অধিকার পায়নি। ঠিক তখন পূূর্ববাংলার জনগণ মূলত “২১-দফা” প্রণয়ন করে জনগণকে সংঘ বদ্ধ করে রাজনৈতিক আন্দোলনের চিন্তা ভাবনা শুরু করে।

আর ১৯৭০ সালে সাধারণ নির্বাচনে জাতীয় পরিষদে গিয়েও আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, সেখানেই ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে’ পাকিস্তানের সেই সামরিক এবং বেসামরিক নেতৃত্ব আওয়ামী লীগের জননেতা- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রাপ্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসতে দেওয়া হয়নি কিংবা অস্বীকার করেছে। তাইতো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু তার প্রতিবাদে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক  দিয়েছিল। তিনি ১৯৭১ সালে ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বা বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিশাল জন-সমুদ্রে ঘোষণা করেছিল, ”এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,.. এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। তারই ঘোষণায় সাধারণ মানুষ স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত হয়েছিল। এরপরে ১৯৭১ এ ২৬ মার্চে আবার বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ডাক দিলে বাংলার মুক্তিকামী মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে মুুুক্তি যুদ্ধে অংশ নেয়। দীর্ঘ ৯ মাস রক্ত ক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর চুড়ান্ত বিজয় সূচিত হয়। অর্জিত বাংলার স্বাধীনতা। ২৬ মার্চ আর ১৬ ডিসেম্বর দুটি দিবস কিংবা দিনকে বুঝতে বা বুুঝাতে হয়তো বা অনেকেরই সমস্যা হয়। ‘‘স্বাধীনতা দিবস’’ ২৬ মার্চ আর ‘’বিজয় দিবস’’ ১৬ ডিসেম্বর এ দুটি দিবসকে গুলিয়ে ফেলি। স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসটাকে নিয়ে বহুজনেরই উলটাপালটা হয়। পেপার পত্রিকাতেও    এ ভুল অনেকের চোখে পড়ে। দু’জায়গার কথাগুলোকে গুলিয়ে ফেলেই একাকার করে দেয়। পরিস্কার ধারণার আলোকেই বলতে হয়,- বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসটা হচ্ছে ২৬ মার্চ তারিখে পালিত হওয়া এক জাতীয় দিবস, এইটিকেই ১৯৭১ সালের ‘২৫ মার্চ’ রাতে তৎকালীন- পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ আনুষ্ঠানিকভাবেই যেন স্বাধীনতার সংগ্রাম শুরু করে। আর সেই মুহূর্তের রাতের পর দিনটি আসে ২৬ মার্চ, আর সে দিনটাকে বাংলাদেশের জনগণ স্বাধীনতা দিবস বলছেন।

আরো পরিষ্কার ভাবেই বলতে চাই,- ২৬ মার্চের রাত বারোটা থেকেই এ দেশের জনগণ স্বাধীনতা দিবস পালন করে আসছে। কারণটা হলো যে, ১২টার পর মুহূর্তে পূর্ব পাকিস্তান কিংবা এ বাংলাদেশের জমিনে যতধরণের পাকিস্তানী সেনারা ছিলো তারা যেন হয়েই গেলো ‘বিদেশী হানাদার শত্রু বাহিনী’ এবং তাদের নিজস্ব এই জন্মভূমির মাটি থেকে তাড়াতে যে যুদ্ধ শুরু হলো- সেটাই হচ্ছে ‘মুক্তিযুদ্ধ’, স্বাধীনতার যুদ্ধ একথাটা- “একটু ভুল”। আর ‘২৬ মার্চ’- থেকেই যদি আমরা শুরুর প্রক্রিয়াতে স্বাধীন না হই তাহলে, মুক্তিযুদ্ধটা কিন্তু আর- ‘মুক্তিযুদ্ধ’ থাকে না, পাকিস্তানের সঙ্গে গৃহযুদ্ধ হয়ে যায়। সুতরাং, এমন বিদেশী দখলদার বাহিনীদের সহিত দীর্ঘ- ”নয় মাস” আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে এদেশে ‘বিজয়’ আনে, তাই তো আমরা পেয়েছি ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস।

এ পৃথিবীতে মাত্র দুইটি দেশ- “স্বাধীনতার ডাক বা কথা” ঘোষণা দিয়েই দেশ স্বাধীন করেছে। এ ‘বাংলাদেশ আর আমেরিকা’। সেই হিসাবে ২৬ মার্চ থেকেই এ বাংলাদেশ স্বাধীন, তা অবশ্যই সাংবিধানিক ভাবেই প্রতিষ্ঠিত, এটা নিয়ে আদৌ তর্কের কোন অবকাশ নেই। বলা প্রয়োজন যে, পাকিস্তানের শাসকরাই চেয়ে ছিল ক্ষমতা সব সময় পশ্চিম পাকিস্তানীদের কাছে থাকুক। সুতরাং তারা যেন দিনে দিনে পূর্ব পাকিস্তান কিংবা বাংলাদেশের মানুষকে যাঁতা কলে বন্দি রাখার বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে।পূর্ব পাকিস্তানের ‘পাট’, ‘চামড়া’ বা ‘চা’ রপ্তানি করেই যে বিদেশি মুদ্রা আয় হতো- তা পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়ন কাজে চতুরতার সঙ্গে তারা ব্যয় করতো। পূর্ব পাকিস্তান এর চাষ করা ফসলের বাজার দাম পশ্চিম পাকিস্তানেই অনেক কম আর পূর্ব পাকিস্তানে অনেক বেশি। এই সব অসংখ্য তথ্য রয়েছে। যা পূর্ব পাকিস্তান এবং আজকের বাংলাদেশের সকল জনতা মেনে নিতে পারেন নি। আর ভেতরে ভেতরে যেন একধরনের ক্রোধ সৃৃষ্টি হয়েছিল এ দেশের জনগণের। সারা পূর্ব পাকিস্তান বা আজকের এ দেশ তখন মিছিলের নগরী হয়েছিল। 
১মার্চ পাকিস্তানের সেই প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান সাহেব জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার পরে বিভিন্ন কাজে পূর্ব এবং পশ্চিম পাকিস্তান মুখোমুখি অবস্থানেই দাঁড়িয়ে যায়। পশ্চিমা শাসক গোষ্ঠির মুখোশ উম্মোচিত হয়। পূর্ববাংলার জনসাধারণ বুুঝতে পারে এইবার তারা আলাদা জন্ম ভূমি গড়তে পারবে। এ দেশের পরিস্হিতি যদিও আয়ত্তের বাইরে চলে যায়, তবুও ৩ মার্চে ঢাকাতে ‘কারফিউ জারি’ করে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়েছিল। এই খবর বাংলার জনতা জানার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকার বাইরের যারা তাদেরও যেন দেশের জন্য উত্তেজনা বাড়তে শুরু করেছিল। আর সেই সময়ে মিছিলমিটিংয়ের নতুন গতি পেয়েছিল। আবার ২মার্চে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এদেশের পতাকা ওড়িয়েছিল ডাকসুর ভিপি, আ স ম আব্দুর রব আর ৪মার্চে ঢাকায় স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেছিল ছাত্রলীগ নেতা, শাহজাহান সিরাজ। তার ভিত্তিতেই বলা যায় এই দেশে কারফিউ হয়ে ছিল। আসলেই মার্চ থেকে ঘটে যাওয়া অনেক ঘটনার দৃষ্টান্তমূলকভাবে আলোচনা করার ইচ্ছা থাকলেও অল্প পরিসরেই তা সম্ভব হচ্ছেনা।

তবুও বলি এদেশটা পাওয়ার উদ্দ্যেশে আওয়ামীলীগের ডাকেই সকাল ছয়টা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত জোরদার ভাবে হরতাল পালিত হয়েছিল।
জাতির জনক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নির্দেশনায়- দুপুর আড়াইটা থেকেই বিকেল ৪ টা পর্যন্ত অতি জরুরি কাজ করার জন্যে সরকারি বেসরকারি অফিস কিংবা ব্যাংক খোলে রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। তাছাড়াও তিনি জরুরি সার্ভিস, হাসপাতাল, ঔষধের নানান দোকান অ্যাম্বুলেন্স সহ সংবাদ পত্র এবং সংবাদ পত্রের গাড়ি, পানি, বিদ্যুৎ, টেলিফোন এইগুলো সেই হরতালের বাহিরে রেখে ছিল। এক কথায় বলতে গেলে, জাতির জনক “বঙ্গবন্ধু” যা যা বলেছিল তাই ঘটেছিল। তার নির্দেশে পূর্ববাংলার সকল জনতা একীভূত হয়ে এই দেশটি স্বাধীন করেছে। আরো জানা দরকার, ৬ মার্চ পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ‘ইয়াহিয়া খান’ রেড়িওতে জাতির উদ্দেশ্যে যে ভাষণ দেয়। এতেই ”২৫ মার্চ” জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে বসার ঘোষণা ছিল। আর তার সঙ্গে বিশৃঙ্খলা যেন না হয়, এক প্রকার হুমকি বা ধমক দিয়েছিল। তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব তা একেবারেই যেন সহ্য করতে পারেননি, তিনিও ৭ মার্চের ভাষণেই তার অনেক জবাব দিয়ে ছিল। আবার ১৫ মার্চ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান আমাদের পূর্ব পাকিস্তান আসে এবং ১৬মার্চ মুজিব-ইয়াহিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। সে বৈঠকে কোনো কাজ না আসলে বঙ্গবন্ধু- ”শেখ মুজিবুর রহমান” বাংলা ছাড়ার ডাক দেন। ক্ষুব্ধ ‘ইয়াহিয়া’ রাগেই যেন ফোঁস ফোঁস করে। এ ধরনের আরো অনেক বৈঠক হয়েছিল। কিন্তু কোনো প্রকার কাজ হয়নি। অনেকাংশে তাদের কাল ক্ষেপণের মধ্য দিয়ে যেন পশ্চিম পাকিস্তান থেকেই- গোলা বারুদ, সৈন্য-সামন্ত বাংলার জমিনে খুব দ্রুত গতিতে আসতে থাকে। তখনই পূর্ববাংলার মানুষরা যুক্তিতর্কের উর্ধ্বে উঠেই যেন স্বাধীনতা অর্জনের নেশায় উম্মত্ত হয়ে যায় এবং যার যাছিল গাইতি, বল্লম, রামদা, বর্শা, লাঠি এই গুলো নিয়েই রাস্তায় নেমে পড়ে। সুতরাং তারাই তো আমাদের ‘মুক্তিযোদ্ধা’, তাঁরা এই বাংলাদেশ স্বাধীন করেছে।

বাংলাদেশের “স্বাধীনতা সংগ্রাম” ছিল দুর্নীতির বিরুদ্ধে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং শোষণের বিরুদ্ধে। ১৮ মার্চ এক অসহযোগ আন্দোলনে ১৬ দিনেই তারা “পদার্পণ করে”। এ আন্দোলনের ঢেউ গ্রাম হতে গ্রামান্তরে ছড়িয়ে পড়ে। সংকটাপন্ন অবস্থায় এইদেশ, যুদ্ধ চলছে, চলছে লাশের মিছিল। ২০ মার্চ জয়দেবপুরের রাজ-বাড়ীতেই অবস্থিত ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একটি দক্ষ ‘ব্যাটালিয়ন’ তাদের হাতিয়ার ছিনিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্রকে ‘নস্যাৎ’ করে দেয়। তারপরে শহর হতে গ্রামাঞ্চলের অসংখ্য মানুষ একত্রিত হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তারা সবাই মিলে টঙ্গী এবং জয়দেবপুরের মোড়ে একটা ব্যারিকেড গড়ে তোলে নব নির্বাচিত জাতীয় পরিষদের সদস্য, মোঃ শামসুল হকের নেতৃত্বে। ২২ মার্চে শহর হতে গ্রাম পর্যন্ত স্বাধীনতার জন্য বাঙালী সংগ্রামে গর্জে ওঠে। এমন ভাবে যতই দিন রাত অতিবাহিত হচ্ছিল, ‘’রাজনৈতিক সঙ্কট’’ ততই গভীরতর হয়ে যাচ্ছিল। এর পরে আরও আসে, ইতিহাসের একটি ভয়ালতম কালোরাত্রি। সে কালো রাতটা যেন বাঙালির ইতিহাসে সবচেয়ে আতংকের রাত। পশ্চিমপাকিস্তানের সামরিক সরকার থেকে গণ হত্যার নির্দেশ আসে। তখন ব্যাপক পরিমাণেই পশ্চিম পাকিস্তানি সৈন্যদের সমাগম ঘটে। অপারেশন সার্চ লাইটের নামে নির্বিচারে গণ হত্যা শুরু হয় এমন রাতে। ২৫ মার্চ কালো রাত ও অপারেশন সার্চলাইট অপারেশনে নেমেছিল সেই কুচক্রী পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মাধ্যমে যেন নির্বিচার হত্যার সাথে সাথেই জ্বালাও পোড়াও স্বাধীনতাকামী বাঙালীর কণ্ঠস্বরটাকে বুলেট দিয়ে চিরতরে স্তব্ধ করার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। এ অপারেশনের মূল লক্ষ্য ছিলো ইপিআর (“ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস”, বর্তমানে বিজিবি) ও এই দেশের পুলিশ সহ বাঙালী সেনা সদস্যদের নিরস্ত্র করা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ আওয়ামীলীগ এর নেতা এবং গুরুত্ব পূর্ণ ১৬ জন ব্যক্তির বাসায় হানা দিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে। জ্বলছে ঢাকা আর মরছেও বাঙালী’রা। একই সাথে শুরু হয়ে গেছে মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার প্রথম প্রহর। এ ভাবেই ‘’মুক্তিযুদ্ধ’’ চলতে চলতে যখন হানাদার পাকবাহিনী বুঝে গেল পরাজয় তাদের অনিবার্য তখনই তারা এ পূর্ব বাংলাকে মেধা-শূন্য, পঙ্গু, কিংবা নেতৃত্বহীন করার জন্যই ১৪ ডিসেম্বর রাজাকার, আল-বদর, আল -শামস বাহিনীর সহযোগিতায় অন্ধকার রাতে হত্যা করে  বহু সংখ্যক অধ্যাপক, প্রকৌশলী, ডাক্তার, আইনজীবী, শিল্পী বা কবি-সাহিত্যিকদের। তথ্যের আলোকেই প্রথম সারির দু শতাধিক বাঙালি বুদ্ধিজীবীকে হত্যার মাধ্যমে ইতিহাসের একটি কলঙ্কময় অধ্যায়ের সূচনা করে ছিল।

এই দেশে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়েই প্রায় দুই লাখ মা বোনদের ইজ্জতের বিনিময়ে এই ‘স্বাধীনতা’৷ আবার বহু জন তাঁদের মূল্যবান ধনসম্পদকেও হারিয়ে ছিল। ‘অগ্নি সংযোগ’, ‘নারী ধর্ষণ’, ‘গণহত্যা’, ‘সংঘর্ষ’ কিংবা ‘হামলা’, আর লুটতরাজের মতো অনেক অপ্রীতিরক ঘটনা-ঘটে যাওয়ার পরও বাঙালির চেতনায় যেন স্বাধীনতা ছিল।

ইশতেহারে বলাই ছিল, আজ থেকেই “স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ” এমন ঘোষণার কথাটা পূর্ণবাংলার মানুষের প্রাণশক্তি, আর তাইতো ৫৪ হাজার বর্গমাইলের ৭কোটি মানুষের আবাস ভূূমির নাম হবে বাংলাদেশ, এতে‌ আজ বাঙালি গর্বিত। মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধের পর যুদ্ধ সুকৌশলে চালিয়েই পাক-বাহিনীর আত্ম সমর্পণের মধ্য দিয়েই ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় করেছে। সুতরাং, অভ্যুদয় ঘটেছে স্বাধীন বাংলাদেশের। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হয়ে ছিল বাঙালি জাতির মুল কর্ণধার। সারাবিশ্বের দরবারে বা মানচিত্রে সংযোজিত হয়েছে ‘নতুন ও স্বাধীন’ এদেশ, ”গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ”। এই বাংলার জনপ্রিয় নেতা,- ”বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান” জেল থেকে বাহির হয়েই স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল আর তিনিই এ দেশের স্থপতি, তাকে স্মরণীয় ও বরণীয় করে রাখার জন্যেই প্রতিকী ভাস্কর্য নির্মাণ করা জাতির কাছে হবে অনেক গর্বের বিষয়। তাছাড়াও তরুণ প্রজন্ম আগামীতে মহান ব্যক্তিকে স্মরণ করায় হয়তো বাধাগ্রস্ত হবে। ভুলে গেলে কি চলবে, তিনিই ছিলেন সকল জাতি‌ পেশার একজন‌ অসাম্প্রদায়িক নেতা। সুতরাং যুুুুগেযুগে এমন কালজয়ী সর্বশ্রেষ্ঠ মহানায়কের হাত ধরে অর্জিত হওয়া “লাল সবুজের জাতীয় পতাকা” এবং তাঁর ভাস্কর্য অক্ষন্ন রাখা আমার, আপনার অসাম্প্রদায়িক চেতনাতে লালন করা উচিত।

লেখক: নজরুল ইসলাম তোফা;
টিভি ও মঞ্চ অভিনেতা, চিত্রশিল্পী;
সাংবাদিক, কলামিষ্ট এবং প্রভাষক।

মানবাধিকার দিবস পালন নয়, বাস্তবায়ন প্রয়োজন

0

প্রতি বছর দশই ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস সমগ্র বিশ্বে পালিত হয়। খুব বেশিদিন নয় ১৯৪৮ সালে ১০ই ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকে দিনটি দিবস হিসেবে পালন করা নেয় জাতিসংঘ। কিন্তু মানব সভ্যতার বিকাশ ও বিস্তৃত হয়েছে অনেক আগে থেকে । তাহলে মানুষের মনে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন এসে যায় যে আগে কি মানবজাতির জন্য মানবাধিকার তথা Human Rights ছিল না ? বর্তমানে মানবাধিকার সনদে, সংবিধানে ও বিভিন্ন আইনের মাধ্যমে মানবাধিকারের কথা বলা হলেও বাস্তবায়নের প্রেক্ষাপটে আশানুরূপ ফল আসে না। বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো , যারা অর্থনীতিতে দূর্বল , তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও প্রকট হয়ে থাকে । কেননা মানবাধিকার প্রয়োগের পূর্বে জানা প্রয়োজন যার অধিকার সে তার অধিকার সম্পর্কে কতটুকু অবগত আছে । যেখানে মানুষ নিজেই সচেতন নয় সেখানে আরও মানবাধিকার পরের বিষয়।

মানবাধিকার বিষয়টি নিয়ে কথা বললে যে বিষয়টি প্রথমে আসে তা হল অধিকার অর্থাৎ মানবজাতির প্রত্যেকের কিংবা সম্মিলিত ভাবে অধিকার। অধিকার বিষয়ে নির্দিষ্ট সংজ্ঞা প্রদান কষ্টসাধ্য কাজ কারণ অধিকারের ব্যাপকতা অনেক। কিন্তু সাধারণ দৃষ্টিকোণ বলা যেতে পারে মানুষের স্বাভাবিক ভাবে জীবন ধারণা জন্য যা যা প্রয়োজন তাই অধিকার। তাহলে এখানে বিষয়টি দাড়ায়  মানুষের স্বাভাবিক জীবন ধারণের জন্য কি কি প্রয়োজন ? ব্যক্তিভেদে, স্থান ভেদে, জাতি ভেদে ও চাহিদা বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। মানুষের চাহিদার শেষ নেই। তবে অধিকারকে দুই ভাগে করা যায় : নৈতিক অধিকার ও আইনত অধিকার।
নৈতিক অধিকার হল মানুষের নৈতিকতা ও প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের বোধ থেকে যে অধিকার জন্মে। এর সাথে ধর্মীয় রীতিনীতি ও জড়িত আছে। আর আইনত অধিকার হল যে সকল অধিকার আইন প্রণয়নে মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং যে বাস্তবায়ন করতে আইন কর্তৃপক্ষ বাধ্য সেগুলোই আইনত অধিকার। উদাহরণ দিয়ে বলা যায় যে আমাদের দেশে মত প্রকাশ করা  আইনত অধিকার তথা মৌলিক অধিকার এবং কেউ যদি এতে বাধাগ্রস্ত করে তবে সে অপরাধী হবে এবং শাস্তি পাবে।

মানবাধিকার ঘোষণা সনদে ২৫ টি মানবাধিকারের কথা বলা হয়েছে যার মধ্যে ১৯ হল পৌর ও রাজনৈতিক অধিকার এবং বাকি ৬ টি অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার। এগুলোকে আইনত অধিকার সম্পূর্ণ রূপে বলা যায় না কারণ প্রত্যেক রাষ্ট্রই স্বাধীন ও সার্বভৌম। সুতরাং রাষ্ট্র কর্তৃক তৈরিকৃত সংবিধানে বা অন্য আইনে যে বিষয়গুলো থাকবে কেবল সেগুলোই হবে আইনত অধিকার এবং তা জনগণের জন্য রাষ্ট্র বাস্তবায়ন করতে বাধ্য। সংবিধান লিপিবদ্ধ থাকলে সেটাকে সাংবিধানিক অধিকার বলা হয়।  বাংলাদেশের সংবিধান যে সকল অধিকারের কথা হয়েছে সেগুলো বলা হয় মৌলিক অধিকার ( Fundamental rights, অনুচ্ছেদ ২৭ থেকে ৪৪ মোট ১৮ টি মৌলিক অধিকার। ) এগুলোর যে কোনো একটি খর্ব হলেই যে কেউ বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৪ (১) অনুচ্ছেদ ক্ষমতা বলে ১০২ (১) অনুযায়ী বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট কোর্টে মামলা তথা রিট ( writ ) করতে পারবে । কিন্তু বাস্তবতা হল এমন বহু ঘটনা সামনে কিংবা খবরে আসে যেখানে দেখা যায় যে মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন হয়েছে কিন্তু জনগণের অসচেতনতার ফলে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হয় নাই । আদালতের আদেশের পরেও বাস্তবতায় মানুষ কতটুকু অধিকার পায় তা নিয়ে সংশয় থেকে যায়।

মানবাধিকারের বিষয়বস্তু পৃথিবীতে একদিনে আসে নাই। প্রত্যেক মানুষই পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করে এবং সমাজে মিলে মিশে বেচে থাকে এবং শেষে মারা যায়। সমাজ নিয়মকানুন অনুযায়ী বেচে থাকতে হয়। আদিম সমাজের মানুষজন অনেক বর্বর ছিল যার কারণে সেখানে বেচে থাকাই দায় ছিল আর মানবাধিকারের চিন্তা করাও আতঙ্ক ছিল। তবে যদি ইসলামিক ইতিহাস দেখা হয় তবে সেখানে বিদায় হজ্জে ইসলাম ধর্মে প্রচারক মহানবী ( সাঃ ) দাস ও দাসিদের অধিকার কথা বলেছেন। কারণ এর পূর্বে দাস ও দাসীদের সাথে অমানবিক আচরণ করা হত এবং তাদের কোনো অধিকার ছিল না । এছাড়া আরও অনেক অধিকারের কথা কুরআন ও হাদীসে বলে দেওয়া আছে। অন্যান্য ধর্মগ্রন্থেও মানুষের অধিকার কথা  বলা আছে। ধর্মীয় ক্ষেত্রে প্রয়োগ হলেও সামাজিক প্রেক্ষাপটে সেটা হয় না।

কিন্তু এতকিছুর পরেও এত পরে মানবাধিকারের সার্বজনীন স্বীকৃতি এসেছে। কারণ শাসকগোষ্ঠীর হাতে থেকে দীর্ঘ সময়ের সংগ্রামের পরে সেটা আদায় করতে হয়েছে । পূর্বে রাষ্ট্র ব্যবস্থার অবস্থা ছিল sovereignty’s command is law মানে শাষকের আদেশই আইনে। সেখানে মানবাধিকার তথা মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলা যেত না। সহজ ভাষায় বলা যায় জোর যার মূল্লক তার। শাসকগোষ্ঠীর এমন আচরণের ও কারণ আছে আর তা হলে জনমনে অধিকারের বিষয়ে দাবি আসলে শাসকের শাসনব্যবস্থায় তার নিয়ন্ত্রণ থাকবে না অর্থাৎ শাসক যেটা চাইবে সেটা হবে না বরং জনগণ যেটা চাইবে সেটা হবে। এর ফলে এমনও হয়েছে যে শাসকগোষ্ঠীর পতন হয়েছে। যদি বৃটিশ সাম্রাজ্যের বিষয়ে দেখা হয় তবে ১২১৫ ম্যাগনা কার্টা ( Magna Carta) বিল থেকে শুরু করে পরবর্তীকালে বিল অব রাইর্টস ( Bill of Rights )  ও এছাড়াও আরও  অাইন পাশের ফলে আসতে আসতে ব্রিটিশ জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী ব্রিটিশরাজ পরিবারের ক্ষমতা এসেছে ব্রিটিশ জনগণ তথা জনপ্রতিনিধিদের হাতে। মানবাধিকারের সাথে গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।

বর্তমানে পৃথিবীতে অনেক মানুষই নিজের অধিকারে সচেতন । তবে তৃতীয় বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশের জনগণ উন্নত বিশ্বের জনগণের মত সচেতন নয়। সাধারণত বাংলাদেশের জনগণ খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থাণ, শিক্ষা ও চিকিৎসাকে মৌলিক অধিকার ভেবে থাকে। কিন্তু এগুলো হল জীবন ধারণের মৌলিক চাহিদা যেগুলো মৌলিক অধিকারে নয় বরং সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল  ( Fundamental principal of state policy ) নীতিমালার মধ্যে অন্তর্গত। উদাহরণস্বরূপ ভাবে বলা যায় মৌলিক অধিকারের একটি হল আইনের দৃষ্টিতে সমতা যেটি মানবাধিকার ও বটে। কিন্তু বাস্তবতার প্রেক্ষাপট আইনের দৃষ্টিতে সমতা দেখা যায় না। কারণ সমাজ ব্যবস্থাই এমন ভাবে প্রতিষ্ঠিত যে ধনীদের বিষয় আইনত অধিকার পাওয়া সহজ হয়ে যায়। বাংলাদেশে সরকারি ভাবে মানবাধিকার বিষয়ের জন্য রয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং বেসরকারি ভাবে রয়েছে অনেকগুলো মানবাধিকার সংস্থা। চারদিকের প্রেক্ষাপট পর্যবেক্ষণেই বুঝা যায় সংস্থাগুলোর কার্যক্রমের অবস্থা। পরিশেষে একটি কথা বলা প্রয়োজন যে যার মাথা ব্যাথা সেই ওষুধ খোঁজে। সুতরাং মানবাধিকার দিবস পালনের মধ্যে নয়, বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

লেখক,
জিসান তাসফিক।
শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ,
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
Email : zeesuntasfiq9314@gmail.com

রিফাত সুপার কিংসকে হারিয়ে দিলো খোশালপুর ক্রিকেট একাদশ

0

উত্তম ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ

স্বপ্নচূড়া কুল্যাপাড়া সামাজিক সংগঠনের আয়োজনে “রাখালগাছি প্রিমিয়ার লীগ-২০২০” এর ৮ম ম্যাচ অনুষ্ঠিত। কুল্যাপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গনে শুক্রবার বিকাল ৩ ঘটিকার সময় খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়।

এই খেলাটির মাধ্যমে ১ম রাউন্ডের খেলার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। ৮ম ম্যাচে অংশগ্রহণ করে খোশালপুর ক্রিকেট একাদশ বনাম রিফাত সুপার কিংস (এনায়েতপুর)।টসে জিতে রিফাত সুপার কিংস ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রথমে ব্যাট করে রিফাত সুপার কিংস ৪ উইকেটের পতন ঘটিয়ে ৮৫ রানের টার্গেট গড়ে তোলে।এরপর খোশালপুর ক্রিকেট একাদশ ৩ উইকেট হারিয়ে ৮ অভার ৫ বল খেলে ৮৬ রান করে জয়কে ছিনিয়ে নেয় ।

আজকের খেলায় ১৮ বলে ৩৫ রান ও ১ উইকেট অর্জনের মাধ্যমে ম্যান অফ দা ম্যাচ নির্বাচিত হন খোশালপুর ক্রিকেট একাদশের খেলোয়াড় জুয়েল। খেলাটির আয়োজকরা জানান, টুর্ণামেন্টটিতে ১৬টি দল অংশগ্রহণ করবে।নক আউট পদ্ধতিতে ১২ ওভারে খেলাটি অনুষ্ঠিত হবে।চ্যাম্পিয়ন দলকে ২৪ ইঞ্চি এল.ই.ডি টেলিভিশন ও রানার্স আপ দলকে একটি আকর্ষণীয় মোবাইল ফোন দেওয়া হবে।

এছাড়া ম্যান অফ দা ম্যাচ ও ম্যান অফ দা টুর্ণামেন্টের জন্য আকর্ষণীয় পুরস্কারের ব্যবস্থা থাকবে। আয়োজকরা আরো জানান, খুব শীঘ্রই ২য় রাউন্ডের খেলা শুরু করা হবে। সকলের প্রচেষ্টায় সুন্দর একটি ক্রিকেট লীগ আয়োজন করতে পেরে সত্যি আমরা অনেক খুশি। বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেক টিম আমাদের ক্রীকেট লীগে অংশগ্রহণ করেছে যেটা সত্যি অনেক প্রশংসনীয়। উক্ত খেলাটির স্পোন্সার হিসেবে রয়েছে- জেবান ইলেকট্রনিক্স এবং ইয়াসিন ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপ (কুল্যাপাড়া, কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ)। আরো রয়েছে মনির গার্মেন্টস এন্ড বস্ত্রালয়(কালীগঞ্জ ঝিনাইদহ)।

হতদরিদ্র অসহায় মানুষদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ

0

নিয়ামুল ইসলাম বগুড়া প্রতিনিধি

“আসুন শীতার্ত দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াই” এই স্লোগানকে সামনে রেখে বগুড়া ধুনট উপজেলা জোড়খালী শিক্ষিত যুব সম্প্রদায় কর্তৃক গঠিত অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী যুব সংগঠন “শেকড়” এর পক্ষে জোড়খালীর হতদরিদ্র অসহায় দরিদ্রদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন। সংগঠনের সভাপতি মোঃ আদনান শরীফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান টি আজ শুক্রবার বিকাল ৩ টায় শুরু হয় ।

গ্রামের প্রায় ২০০ জন হতদরিদ্র দের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করে সংগঠন টি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠন এর উপদেষ্টা পরিষদের সম্মানিত প্রধান উপদেষ্টা জোড়খালীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ শামসুল বারী শেখ। উপদেষ্টা প্যানেলের আরো উপস্থিত ছিলেন মাওলানা মোঃ আমিনুল ইসলাম, ডাঃ আবু তালহা, মোঃ আব্দুর রউফ,রবিউল হাসান স্বপন, গ্রামের মুরুব্বি বীর মুক্তিযোদ্ধা আঃ মজিদ মন্ডল,ওমর ফারুক মুন্টু। সংগঠন এর নির্বাহী পরিষদের উপস্থিত ছিলেন, মোঃ শামীম আহমেদ,মোঃ রানা সরকার,মোঃ সোহেল রানা।

সাধারণ পরিষদের সকল সদস্যদের সবাই উপস্থিত ছিলেন। সবার সার্বিক সহযোগিতায় শেকড় এর মহতী এ উদ্যোগ সম্পন্ন। অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন সংগঠন এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফুল বাবু।